বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



এই পরীক্ষা আর কত দীর্ঘ হবে?



বিজ্ঞাপন

তাইসির মাহমুদ :: উযাইর নবী রাস্তায় কিছু হাড় ও কংকাল দেখে মনে মনে ভাবছিলেন এগুলোর ভেতরে আল্লাহ তায়ালা কি আসলেও প্রাণ সঞ্চার করতে পারবেন? কথাটি ভাবতেই তাঁর কাছে জমদূত এসে হাজির। জান কবজ করে নিয়ে গেলেন সঙ্গে সঙ্গে। এভাবেই তিনি রাস্তায় মরে পড়ে রইলেন। ১০০ বছর পর ফেরেশতা এসে তাকে জীবিত করলেন। আল্লাহ তায়ালা তাকে প্রাকটিকেলী দেখিয়ে দিলেন, কীভাবে তিনি মৃত মানুষকে তার হাড়-কঙ্কাল থেকে জীবিত করেন।


দুই. পূর্তিপুজক বাদশার অত্যাচার থকে প্রাণরক্ষা করতে আসহাবে কাহাফ নামক গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন ৭ যুবক। সাথে ছিলো তাদের একটি কুকুরও। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে গুহায় ঘুম পাড়িয়ে রাখলেন একটানা ৩০০শ বছর। জেগে ওঠার পর তারা ভাবছিলো মাত্র একদিন কিংবা অর্ধেক দিন আগে ঘুমিয়েছিলো। কিন্তু শহরে যখন খাবার কিনতে গিয়ে তাদের সঙ্গে থাকা মুদ্রা বিনিময় করতে চাইলো, তখনই ধরা পড়লো এগুলো প্রায় ৩০০ বছর আগের । আর এভাবেই প্রমাণিত হলো ৩০০ বছর আগে মারা যাওয়া ৭ যুবককে আল্লাহ তায়ালা পুনরায় জীবিত করেছেন।

এ ধরনের আরো অনেক ঘটনাই পবিত্র কুরআনে বর্ণিত আছে। তবে এই দুটো ঘটনার কথা চিন্তা করলে আমরা আল্লাহ তায়ালার বিশালত্ব উপলব্ধি করতে পারি। তিনি সময়ের গননা তাঁর মতো করেই করেন। কোনো একটি ঘটনার জন্ম দিয়ে মানুষকে যখন কিছু শেখাতে চান তখন ধীর লয়ে অনেক বছর সময় নিয়েই করেন। কাউকে একশ বছর মৃত রেখে জীবিত করেন, কাউকে ৩০০ বছর ঘুমিয়ে রাখেন। এটাই তো তার কুদরত। এটাই তাঁর বিশালত্বের প্রমাণ।

তেমনি করোনাও আমাদের জন্য আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত এক বড় পরীক্ষা। আল্লাহ যখন কোনো জাতিকে পরীক্ষার মুখোমুখি করেন তখন সেই পরীক্ষার সময়কাল তিনি তাঁর মতোই নির্ধারণ করেন। কারণ তিনি বিশাল। আসমান-জমিনসহ বিশ্বে যা কিছু আছে সবকিছুরই অধিপতি। তাই আমরা জানিনা করোনার পরীক্ষা আমাদের জন্য কত দীর্ঘ হবে?


হে প্রভু, তোমার কাছে করজোড়ে প্রার্থণা, তুমি আমাদের রহম করো। অন্যান্য জাতিকে তুমি যেভাবে দীর্ঘসময়ের জন্য পরীক্ষা করেছ আমরা সেভাবে পারবো না। তোমার মহামারি উঠিয়ে নাও। আমিন।

লেখক: সম্পাদক, সাপ্তাহিক দেশ
লন্ডন, যুক্তরাজ্য