বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



সিলেট মহানগরেই ফিরলেন কামরানপুত্র শিপলু



বিজ্ঞাপন

নিউজ ডেস্ক: সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগেই ফিরলেন ডা. আরমান আহমদ শিপলু। তিনি সিলেটের প্রয়াত মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের বড় ছেলে। পিতার মৃত্যুর পর সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার জন্য উদগ্রীব ছিলেন। পিতার স্মৃতি বুকে লালন করে রাজনীতি করতে চেয়েছিলেন। এ কারণে নিজ থেকেই আকুতি জানিয়েছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগে ফেরার। অবশেষে দলের হাইকমান্ড তাকে মহানগরের রাজনীতিতেই ফিরিয়ে আনলেন। এতে খুশি সিলেটের কামরান পরিবার। সিলেটের কামরান আমৃত্যু আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। খবর: মানবজমিন


দেড় দশক ধরে তিনি দলটির শীর্ষ নেতা হিসেবে সিলেটে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় সদস্য হওয়ার সুবাদে চষে বেড়িয়েছেন সিলেট বিভাগের আওয়ামী লীগের রাজনীতির ময়দানে। সংসদ, উপজেলা, পৌর সহ ইউনিয়ন নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের হয়ে ভোটের মাঠে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। এ কারণে সিলেটের কামরান নেতা হিসেবেও আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের কাছে সমাদৃত ছিলেন। মহামারি করোনায় হঠাৎ মৃত্যুবরণ করলেন কামরান। গত ১৫ই জুন তিনি সিলেটের মানুষকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। নিজে যেহেতু মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন সে কারণে জীবদ্দশায় বড় ছেলেকে মহানগরে অন্তর্ভুক্ত করেননি। শিপলুকে জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে রেখেছিলেন। জেলা আওয়ামী লীগের বিগত কমিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন ডা. শিপলু। এবার সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের আগেই করোনায় মারা যান কামরান। এরপর থেকে শোকাহত তার পরিবার।

গত সেপ্টেম্বরে দলীয় প্রধানের নির্দেশে যখন মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হয় তখন শিপলু তার পিতার স্মৃতি বিজড়িত মহানগর আওয়ামী লীগে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য সিলেটের নেতাদের কাছে আব্দার রেখেছিলেন। কিন্তু মহানগর নেতারা শিপলুর সেই আব্দার রক্ষা করতে পারেননি। তবে- জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েই শিপলুকে জেলা কমিটির সম্পাদকীয় পদে রাখেন। এদিকে- কমিটি দু’টির প্রস্তাব ঢাকায় পাঠানোর পর বিষয়টি নজরে আসেন কেন্দ্রীয় নেতাদের। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্তক্রমে শিপলুকে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ঘোষিত কমিটিতে শিপলুকে রাখা হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণার পর থেকেই কামরান পরিবার খুশি। এমনকি কামরান বলয়ের নেতারা এই সিদ্ধান্তেও তৃপ্ত।


তাদের মতে- মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। তার হাত ধরেই সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ এখন শক্তিশালী একটি সংগঠন। সুতরাং কামরানের প্রতি সম্মান জানাতেই তার বড় ছেলে ডা. আরমান আহমদ শিপলুকে মহানগর আওয়ামী লীগে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এটা শুধু শিপলুর অন্তর্ভুক্তি নয়, কামরান পরিবারেরও অন্তর্ভুক্তি। এতে তৃণমূলের নেতারাও খুশি হয়েছেন বলে জানান তারা। এদিকে- সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অন্তর্ভুক্ত করায় ডা. আরমান আহমদ শিপলুও খুশি। এজন্য তিনি দলের সভানেত্রী, সাধারণ সম্পাদক সহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন- পিতার আদর্শ ধরে, দলীয় প্রধানের নেতৃত্বে অবিচল থেকে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগকে এগিয়ে নিতে কাজ করবেন। এজন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

এদিকে- পেশাগতভাবে শিপলু একজন ডাক্তার। তিনি সিলেটের রাগিব-রাবেয়া হাসপাতালের উপ পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশার বাইরেও তিনি পিতার মতো সমাজসেবার কাজে সিলেটে সক্রিয় রয়েছেন। তার মা আসমা কামরান সিলেট মহানগর মহিলা লীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

মাজার জিয়ারত: সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেনের নেতৃত্বে মহানগর আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি হযরত শাহ্‌জালাল (রহ.), হযরত শাহ্‌পরাণ (রহ.) ও শাহ্‌ গাজী বোরহানউদ্দিনের মাজার জিয়ারত করেন। সকাল ১০টায় হযরত শাহ্‌জালাল (রহ.) মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে নেতৃবৃন্দ হযরত শাহ্‌পরাণ (রহ.) ও শাহ্‌ গাজী বোরহানউদ্দিন এর মাজারে যান। এছাড়াও নেতৃবৃন্দ সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক মেয়র মরহুম বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও সাবেক সহ-সভাপতি মরহুম মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন সহ বিভিন্ন সময় মৃত্যুবরণকারী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের কবর জিয়ারত করেন।


এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক, মো. সানওয়ার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এটিএম হাসান জেবুল, বিধান কুমার সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট শামীম আহমদ চৌধুরী, ডা. আরমান আহমদ শিপলু, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক তপন মিত্র, এাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মখলিছুর রহমান কামরান, দপ্তর সম্পাদক খন্দকার মহসিন কামরান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নজমুল ইসলাম এহিয়া, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুর রহমান জামিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মহিউদ্দিন লোকমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ জুবের খান, যুব ও ক্রিড়া বিষয়ক সম্পাদক সেলিম আহমদ সেলিম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ইলিয়াছুর রহমান ইলিয়াছ, উপ-দপ্তর সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্ত্তী রনি, উপ-প্রচার সম্পাদক সোয়েব আহমদ।

জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন- ‘দলীয় প্রধান তরুণ ও অভিজ্ঞদের নিয়ে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। যাদের অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা ত্যাগী সর্বোপরী মেধার সমন্বয়ে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত ও মজবুত করার জন্য আমরা কাজ করে যাবো।’