বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



কুলাউড়ায় তিন ছেলে কারাগারে, অনাহারে ঘরেই মরে পড়ে রইলেন মা



বিজ্ঞাপন

নিউজ ডেস্ক: একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিন ছেলে কারাগারে। অন্য এক ছেলেসহ স্ত্রীরা আত্মগোপনে। পাড়া-প্রতিবেশীরাও বাড়িতে যাওয়া আসা বন্ধ করে দেন। কিন্তু বৃদ্ধা মা ভিটেমাটির মায়ায় ঘর ছাড়েননি। দুশ্চিন্তায় আর অনাহারে একা ঘরে কবে যে বুড়ি মায়ের মৃত্যু হয়েছে কেউ বলতে পারছে না। লাশের দেহে পচন ধরলে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায় এলাকায়। খবর পেয়ে সোমবার (২১ ডিসেম্বর) পুলিশ বাড়িতে পৌঁছে পেছনের দরজা দিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ভূকশীমইল ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা ও পৌরশহরের ব্যবসায়ী আব্দুল মনাফকে গত ১২ ডিসেম্বর তারই চাচাতো ভাই শাহিনুর রহমান শাহিদসহ স্বজনরা হত্যা করেন। পরে বাড়ির পেছনে একটি গর্তে মাটিচাপা দিয়ে পুঁতে রাখেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তিন দিন পর ১৫ ডিসেম্বর পুলিশ শাহিনুর ও তার ভাইকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে পুলিশ ওইদিন রাতে শাহিনূরদের বাড়ির পেছনে সেপটিক ট্যাংকের পাশে গর্ত থেকে মাটিচাপা দেয়া লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় শাহিনুর রহমান ও তার বড় ভাই আতিকুর রহমান চান মিয়াসহ জড়িত সাত আসামির ছয়জনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

এদিকে এ ঘটনার পর থেকে ঘাতক শাহিনুর ও আতিকুর রহমানের স্ত্রী-সন্তানরা এবং তাদের ভাই শাহিদুল বৃদ্ধা মা জুবেদা খাতুনকে একা ঘরে রেখে পালিয়ে যান। ওই বৃদ্ধার মেয়ে আফসা বেগম স্বামীর বাড়ি থেকে সোমবার সকালে বাবার বাড়িতে এসে ঘরে অনেক ডাকাডাকি করেন। ডাকাডাকিতে মায়ের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানান।

খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিনয় ভূষণ রায়সহ পুলিশ সেখানে গিয়ে ঘরের ভেতরে বিছানা থেকে জুবেদা খাতুনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়।


পুলিশ জানায়, ২-৩ দিন আগে হয়তো বৃদ্ধা অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। পরে লাশে পচন ও গন্ধের সৃষ্টি হয়।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিনয় ভূষণ রায় লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সুরতহালে বৃদ্ধার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মনাফ হত্যার জের ধরে বৃদ্ধার কাছে কেউ না থাকায় তিনি অসুস্থ হয়ে হয়তো মারা গেছেন। অধিকতর তদন্ত ও নিশ্চিতের জন্য লাশ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’