বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



সিলেট সিটি করপোরেশন কাউন্সিলর তাজ ঢাকায় গ্রেফতার



বিজ্ঞাপন

বিশেষ প্রতিবেদক :: সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) কাউন্সিলর ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি তারেক উদ্দিন তাজ ঢাকায় গ্রেফতার হয়েছেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের লিখিত পরীক্ষা চলাকালে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগে শনিবার তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ ঘটনায় করা একটি মামলায় তাজকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে রোববার (২০ ডিসেম্বর) একদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।


তারেক উদ্দিন তাজকে গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের নিউ মার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কাইয়ুম বলেন, পরীক্ষা চলাকালে অরাজকতার দায়ে ঘটনাস্থল থেকেই তাজকে আটক করা হয়। পরে রোববার মামলা দায়েরের পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ৩৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে প্রথমেই রয়েছে তাজের নাম।

তাজকে রিমান্ডে নেয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে (রোববার) এই মামলায় ৫ জনকে রিমান্ডে নিয়েছি। পর্যায়ক্রমে সব আসামিদের রিমান্ডে নেওয়া হবে।

তারেক উদ্দিন তাজ সিলেট সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। বিগত নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হন। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের ভাগ্নে। গত ১১ ডিসেম্বর সিলেটের জৈন্তাপুরের একটি রেস্টুরেন্টে পাখির মাংস দিয়ে ভূরিভোজ করে সর্বশেষ বিতর্কে জড়ান তিনি। ভূরিভোজের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তারেক উদ্দিন তাজ বার কাউন্সিলের পরীক্ষার একজন পরীক্ষার্থী ছিলেন।

সিটি কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন তাজ সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পরিচালক (মিডিয়া, প্রশাসন ও জনসংযোগ) হিসেবে কর্মরত। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আইন বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন।

এ বিষয়ে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শহীদ উল্লাহ তালুকদার বলেন, ‘তারেক উদ্দিন তাজ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। এখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। তবে উনি (তাজ) গ্রেফতার হওয়ার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। এখনই প্রথম এটি শুনলাম। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। তার আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

জানা গেছে, শনিবার বার কাউন্সিলের পরীক্ষা চলাকালে একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন কিছু সংখ্যক পরীক্ষার্থী। প্রশ্নপত্র ‘অস্বাভাবিক’ ও ‘কঠিন’ হয়েছে এমন অজুহাতে শনিবার রাজধানী ঢাকার কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্রে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় অনেক পরীক্ষার্থীর খাতা ছিঁড়ে ফেলা হয়। সেইসঙ্গে শিক্ষক ও পরীক্ষা পরিদর্শকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগও উঠেছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী ছিলেন সিলেটের দেবব্রত ঘোষ চৌধুরী। শনিবারের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ কেন্দ্রের বাইরে হট্টগোল শুনতে পাই। তখন পরীক্ষা পরিদর্শকরা আমাদের আশ্বস্ত করেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে হট্টগোলকারীরা কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে আমাদের উত্তরপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়ে করোনার ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবকের কারণে আমিসহ অনেকের ভবিষ্যৎ এখন হুমকির মুখে পড়েছে।’

জানা যায়, মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজ, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ ও সূত্রাপুর থানার মহানগর মহিলা কলেজ কেন্দ্রে কিছু পরীক্ষার্থী সকালে পরীক্ষা দিতে অনীহা প্রকাশ করে। পরে তারা পরীক্ষা দিতে আগ্রহী পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে বাধা দেয় এবং কেন্দ্রের বাইরে এসে বিক্ষোভ করে।

অ্যাডভোকেটশিপ প্রার্থীদের এই লিখিত পরীক্ষা গত ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, করোনা পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষার সময়সূচী নির্ধারণ করা হয়েছিল।


এ বছর রাজধানীর ৯টি কেন্দ্রে প্রায় ১৩ হাজার প্রার্থীর জন্য এই লিখিত পরীক্ষার আয়োজন করে বার কাউন্সিল। এর আগে প্রার্থীদের একাংশ লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে অ্যাডভোকেটশিপ এনরোলমেন্টের দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। এই দাবির মধ্যেই শনিবার এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটল।