বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



শীতে যে তিনটি রোগ বেড়েছে সুনামগঞ্জে



বিজ্ঞাপন

নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জে শীত ও ঠান্ডা জনিত কারণে বেড়েছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ। আক্রান্তের বেশির ভাগই বিভিন্ন বয়সের শিশু। গেল ৭ দিলে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৫৪ জন এবং নিমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ১০৪ জন শিশু চিকিৎসা নিয়েছেন। মারা গেছে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ৭ শিশু।


সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৬ থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সদর উপজেলার রাবারবাড়ি গ্রামের সানি (৩ মাস), সাদকপুর গ্রামের রুবেল (১৫ মাস), গুলেরগাও গ্রামের রাইয়ান (৪২ দিন) দোয়ারাবাজার উপজেলার গনারগাও গ্রামের জোহান (৪০ দিন), জামালগঞ্জ উপজেলার রাধানগর গ্রামের শিহাব (৫ মাস) ও আব্দুর রহমান (৫ মাস) এবং বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের সেজোয়ান (৩৬ দিন) নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত কারণে মারা যায়।

সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বালাকান্দা গ্রামের সামির উদ্দিন বলেন, পরিবারের সবার অজান্তে তার মেয়ে তাঞ্জুমা বেগমের ঠান্ডা লাগে। প্রথমে জ্বর ও পরে শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তিনি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। দিনের বেলায় শীত কম লাগলেও রাতে ঠান্ডার পরিমাণ বেড়ে যায় তাই তাদের গ্রামের শিশুরা শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

ইব্রাহিমপুর গ্রামের তানিম মিয়া জানান, তার মেয়ে রাফিয়া বেগম হঠাৎ পাতলা পায়খানা ও বমি করে। পরে অবস্থা খারাপ দেখে তাকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রতারগাঁও গ্রামের আবু তালিব বলেন, গরিব ঘরের শিশুরা শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকের শীতবস্ত্র কিনে দেওয়ার সামর্থ নেই। তাই তারা আক্রান্ত হচ্ছেন।

সদর উপজেলার জগাইরগাঁও গ্রামের সোহাগ মিয়া বলেন, হাসপাতালে অনেক ওষুধ মেলে না। বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনে আনতে হয়। তারা শুধু স্যালাইন দেয়। বাকি ওষুদের জন্য টোকেন লিখে দেয়।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের জমির আলী বলেন, হাসপাতালে এসে যদি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে দিতে হয়, তাহলে প্রাইভেট ডাক্তার দেখানোই ভালো। এতো কষ্ট করতে হতো না।

শিশুদের অভিবাবকরা জানান, হঠাৎ করে শীত বেড়ে যাওয়ায় শিশুরা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালের থেকে দুইটি ওষুধ সরবরাহ করা হলেও বেশির ভাগ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে তাদের।

সিভিল সার্জন জানান, হাসপাতালে ওষুধের কোনও সংকট নেই। ঠান্ডার কারণে রোগবালাই কিছুটা বেড়েছে। এ সময় শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়ার পরামর্শ তার। আক্রান্ত শিশুদের শুরুতে পাতলা পায়খানা ও পরে জ্বর এবং বমি হয় তারপরই শিশুরা অসুস্থ হয়ে যায়। দিনে ঠান্ডার পরিমাণ কম থাকলেও রাতে বেশি ঠান্ডা পড়ায় পরিবারের সদস্যদের অজান্তেই শিশুরা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খাবার গ্রহণ করায় শিশুরা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। সদর হাসপাতালে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ৪৬ জন ও নিউমোনিয়া ওয়ার্ডে ৪১ জন শিশু ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রতিদিন গড়ে ২৯ জন শিশু ও বয়স্ক নারী পুরুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।


সিভিল সার্জন ডা. মো. শামছ উদ্দিন দাবি করেন, সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যে ৭ জন শিশু মারা গেছে এর জন্য ডাক্তারদের অবহেলা বা ওষুধের সংকটের কোনও কারণ নেই। শিশুরা আক্রান্ত হওয়ার পর তাদের অভিবাবকরা হাসপাতালে না এসে বিভিন্ন টোককা চিকিৎসা, কবিরাজ, গ্রাম্য চিকিৎসক দেখিয়ে রোগ ভালো না হওয়ায় মুমূর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে ওই শিশুদের চিকিৎসা দিয়ে কোনও লাভ হয় না। হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ রয়েছে। তারা যদি সময় মতো শিশুদের নিয়ে হাসপাতালে আসতেন তাহলে প্রাণ রক্ষা করা যেতো। শীত মাত্র শুরু হয়েছে। শিশু ও বয়স্কদের গরম কাপড় গায়ে দিয়ে থাকতে হবে। এ হাসপাতালে ওষুধের কোনও সংকট নেই। তবে ইডিসিএল এর কিছু ওষুধের ঘাটতি রয়েছে। এ সময় তিনি শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ায় পরামর্শ দেন।

সিভিল সার্জন অফিসের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, গেলো এক মাসে জেলায় দুই শতাধিক শিশু ঠান্ডা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।