শনিবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



‘আইনজীবীকে হয়রানির অভিযোগ সঠিক নয়’



বিজ্ঞাপন

নিউজ ডেস্ক: গত ২২ নভেম্বর অনলাইন নিউজপোর্টাল লাতু এক্সেপ্রেসে ‘বড়লেখার শাহবাজপুরে জায়গা দখলের মিথ্যা অভিযোগ এনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীকে হয়রানি’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন লন্ডন প্রবাসী বদরুল হোসেন বাবু।

লাতুতে পাঠানো এক প্রতিবাদ লিপিতে তিনি বলেন, ‘গত ২২ নভেম্বর আপনার নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ  ‘বড়লেখার শাহবাজপুরে জায়গা দখলের মিথ্যা অভিযোগ এনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীকে হয়রানি’ আমাদের গোচরীভূত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদটি সঠিক নয় বলে আমরা এর প্রতিবাদ করছি। কারণ এতে ঘটনার তাৎপর্য পাল্টে অত্যাচারিতকেই অত্যাচারী হিসাবে দেখানো হয়েছে।


আলোচিত জায়গাটি বিগত প্রায় ৫০ বছর পূর্বে আমাদের পিতা মরহুম ডা. আজির উদ্দিন আহমদ ক্রয় করে সেখানে পুকুর তৈরি করেন। এরপর থেকে জায়গাটি আমাদের ভোগ দখলে আছে। যেহেতু বাড়িতে আমাদের কেউ থাকেন না সেহেতু সেই জায়গাটি দীর্ঘদিন থেকে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

গত ২৬ শে অক্টোবর আমাদের প্রতিবেশী নান্দুয়া গ্রামের মৃত তফাজ্জল আলীর ছেলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জনাব তবারক হোসেন সাহেব আমাদের না জানিয়েই সেখানে একটি মাপের (জরিপ) আয়োজন করেন এবং আমাদের ভোগ দখলকৃত জায়গার ভিতরে পিলার পুঁতে রাখেন। এর পরদিন বিষয়টি জানতে পেরে আমরা সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করি এবং পুনরায় মাপের আগে সেখানে কোনো প্রকার নির্মাণ কাজ শুরু না করার জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু আমাদের বলা হয় একদিনের ভিতরে মাপের আয়োজন করতে। এত কম সময়ে আমাদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে আমরা সময় আরও বাড়িয়ে দিতে অনুরোধ জানাই। কিন্তু আমাদের কোনো প্রকার সময় না দিয়েই এর পরদিন তারা সীমানা দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করেন এবং সেখানে আমাদের লাগানো অনেকগুলো সুপারী গাছ কেটে ফেলেন। আমাদের কোনো প্রকার আপত্তি তারা গ্রাহ্য করেননি। এভাবে একতরফাভাবে সীমানা দেয়াল নির্মাণের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে তারা সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চলে গেলে তারা আবার দেয়াল নির্মাণ শুরু করেন।

সীমানা চিহ্নিত হওয়ার আগে এভাবে একতরফা দেয়াল নির্মাণের বিষয়টি বন্ধ রেখে আবার যথোপযুক্ত মাপের আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সময় প্রদানের জন্য এই সম্পত্তির অন্যতম অংশীদার লন্ডন প্রবাসী বদরুল হোসেন সিলেটের প্রবাসী কল্যাণ সেলের সভাপতিকে অনুরোধ জানিয়ে গত ১ লা নভেম্বর একটি চিঠি লিখেন। কিন্তু চিঠিটি পৌঁছানোর পরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমার ছোট ভাই জাকির হোসেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে বিষয়টি সমাধানের জন্য ৬ সপ্তাহ সময় চেয়ে গত ১১ নভেম্বর ২০২২ একটি দরখাস্ত জমা দেন। এর এক সপ্তাহ পুনরায় আরেকটি গ্রহণযোগ্য মাপের আয়োজনের জন্য চার সপ্তাহ সময় দেয়া হয়। এর মধ্যে প্রবাসী কল্যাণ সেলে পাঠানো চিঠিটি গত ১৯ শে নভেম্বর স্থানীয় পুলিশের হাতে পৌঁছায়। এই চিঠিটিতেও আমাদের কাগজপত্র সংগ্রহ ও পুনরায় জমির মাপ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু চিঠিটি পাবার পর তড়িঘড়ি করে আমাদের অপ্রস্তুত রেখে পরদিনই মাপের জন্য বলা হয় এবং আগের দেয়া চার সপ্তাহ সময় বাতিল করে দেয়া হয়।

এই অবস্থায় আমাদের প্রয়োজনীয় কাগজ সংগ্রহ ও অন্যান্য প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়ে গত ২০ শে নভেম্বর সেই জমিটি আবার মাপা হয় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন স্বশিক্ষিত স্থানীয় তিনজন মুহুরী বা আমিন দিয়ে। সময় স্বল্পতার কারণে আমাদের পক্ষে বিষয়টি তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল ও ছিলেন না। জমি মাপামাপির এক পর্যায়ে নামাজের সময় হলে সংশ্লিষ্টরা নামাজে চলে যান। নামাজ শেষে তিনজন মুহুরী সবার অগোচরে আমাদের প্রতিবেশী কর্তৃক নিয়োজিত মুহুরীর দোকানে বসে হিসাব কষে আগের মতই একতরফা একটি ঘোষণা দেন। এরকম গুরুত্বপূর্ণ একটি মাপের হিসাব নিকাশ স্বচ্ছতার স্বার্থে সবার সামনে হওয়াই উচিত ছিল বলে আমরা মনে করি।


আমরা মনে করি সীমানা সংলগ্ন জায়গাটির গ্রহণযোগ্য পরিমাপের আয়োজনে আমাদের যথাযথ প্রস্তুতির জন্য সময় দেয়া হয়নি। জায়গাজমির মাপ বুঝতে সক্ষম এবং অভিজ্ঞ সরকারী আমিন ও আমাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একটি গ্রহণযোগ্য পরিমাপের আয়োজন করে যদি জায়গাটি উনার বলে প্রমাণ হয় তাহলে সেই সিদ্ধান্ত আমরা সানন্দে মেনে নেব। সেজন্যই আমরা এই মাপের পরিসমাপ্তিতে আয়োজনকারীরা যে ঘোষণা দিয়েছেন তার সাথে একমত নই। আমাদের ন্যায্য হিস্যা বুঝিয়ে দিয়ে বিষয়টির একটি সর্বজন গ্রহণযোগ্য সমাধান এবং যাবতীয় বিভ্রান্তি নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি।’