শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



১৩ দিনের চেষ্টায় ডাকাত সর্দারকে ধরলো মৌলভীবাজার পুলিশ




জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক :: বিভিন্ন থানায় ২৩টি মামলা। মৌলভীবাজারসহ আশপাশের এলাকায় যত ডাকাতির ঘটনা ঘটে তার বেশিরভাগের পরিকল্পনা আসে তার মাথা থেকেই। তা বেড়ে যায় শীত মৌসুমে।

চলতি শীত মৌসুমে করোনার অর্থনৈতিক প্রভাবে বেপরোয়া হতে পারে ডাকাত দল তাই এর মূলহোতাকে ধরতে টানা ১৩ দিন ছদ্মবেশে অভিযান চালায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায়।


আর এতে পুলিশের জালে ধরা দেয় ২৩ মামলার আসামি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার ও মৌলভীবাজার জেলায় একের পর এক ডাকাতি করার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ফজর আলী প্রকাশ বাটন।

ফজর আলী হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার কাচুয়া গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে। তার নামে হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল, আজমীরি, ঢাকা, মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন থানায় ২৩টি মামলা রয়েছে।

১৫ তারিখ রাতে এই ডাকাত সর্দারকে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার ফারুক আহমদের পরিকল্পনায় মডেল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) পরিমল চন্দ্র দেবের নেতৃত্বে গ্রেফতার করা হয়। তবে ১৭ তারিখ বিষয়টি নজরে আসে।

পুলিশের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, মৌলভীবাজারে যত ডাকাতি হত তার পেছনে পরিকল্পনায় ছিল ফজর আলী প্রকাশ বুটন। শীত মৌসুমে সাধারণত ডাকাতি বেশি হয়। ডাকাত দলের পরিকল্পনাও থাকে শীত মৌসুমকে ঘিরে। গত বছর শীতে এ রকম ঘটনা জেলায় ঘটেছে। তাই এই বছর শীত আসার আগে থেকেই এই ডাকাত সর্দারকে ধরতে পরিকল্পনা করে পুলিশ।

মৌলভীবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) পরিমল চন্দ্র দেব জানান, ১৩ দিন ধরে তাকে ধরতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়। চুনারুঘাট থানার সহযোগিতায় অবশেষে তারে নিজ গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। আদালতের মাধ্যেম তারে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ জানান, আমরা স্বপ্ন দেখি ডাকাতমুক্ত মৌলভীবাজারের। সেজন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে শীত মৌসুমে মৌলভীবাজারে ডাকাতির ঘটনা ঘটে থাকে। গত বছর আমাদের কঠোর নজরদারি এবং জনগণের সাথে কাঁধ মিলিয়ে আমাদের কর্মতৎপরতার কারণে সাতটি থানার মধ্যে ছয়টি থানায় কোন প্রকার ডাকাতি সংঘটিত হয়নি।

শুধুমাত্র সদর থানায় দুটি ডাকাতি হয়েছিল। করোনার কারণে এবং গত বছর ডাকাতি করতে না পারায় বিভিন্ন গোপন সূত্রে জানা যায় ডাকাতদল এবার শীতের আগমন ঘটতে না ঘুরতেই সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। সেজন্য শুরু থেকেই আমরা জোরদার কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই।


কিন্তু চাহিদার তুলনায় জনবল ও যানবাহনের ঘাটতি থাকায় ‘পুলিশ-জনতা’ এর যৌথ প্রয়াসে গতবারের ন্যায় আমরা কাজ করে যাব। ডাকাতির সাথে জড়িত সবাইকে গ্রেফতারের জন্য আমাদের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে।