শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



গাছ চুরি ঠেকাতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: পরিবেশ মন্ত্রী




নিউজ ডেস্ক: গাছ চুরি ও অবৈধভাবে গাছ কাটা বন্ধে ব্যর্থ বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।


বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা জানান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে ১ কোটি গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পাদন উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, গাছ চোরদের প্রতিহত করা বনের যারা কর্মকর্তা আছেন তাদের দায়িত্ব। যেখানে অবৈধভাবে গাছ কাটা হবে, চুরি করে গাছ কাটা হবে সেটা বন্ধ করতে হবে। যদি বন্ধ না করা যায় তাহলে কেউ যদি গাছ কেটে নিয়ে যায় তার বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়েও আমাদের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা আছেন বন বিভাগের তারা যদি এটা করতে ব্যর্থ হন তাদের বিরুদ্ধে আমরা ডিপার্টমেন্টাল ব্যবস্থা নিচ্ছি, আমরা গাছ কাটা বন্ধের জন্য যেটা করা প্রয়োজন আমরা সেটাই করব। গাছ কাটা বন্ধের চেষ্টা অব্যাহত আছে আমরা ইনশাআল্লাহ গাছ কাটা বন্ধ করব। যদি একান্ত না পারা যায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে প্রস্তুত আছি।’

২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে শতভাগ ব্লক ইটের ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আস্তে আস্তে বেসরকারি স্থাপনার ক্ষেত্রেও সবাইকে ব্লক ইটে নিয়ে যাবো। পুরনো পদ্ধতির ইটভাটা চিরতরে বন্ধ করার জন্য আইন করা হয়েছে। পুরনো ইটভাটা ভেঙে দেয়া হচ্ছে, জরিমানা করা হচ্ছে।’

একটি দেশের ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে বনের অনেক জায়গা বেহাত হয়ে গেছে। প্রায় ৩ লাখ একর জায়গা বেহাত হয়ে গেছে। আমরা এই জায়গা উদ্ধার করার পরিকল্পনা নিয়েছি। এখন আমাদের বনভূমি ১৫ শতাংশের মতো আছে। বাকি ১০ শতাংশ সামাজিক বনায়ন, চরাঞ্চলে গাছ লাগানোর মধ্যেমে আমরা এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য ২০৩০ সালের মধ্যে বনভূমি ২৫ শতাংশে উন্নীত করতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।’


গাছ বিতরণের পর গাছের যত্ন নেয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘যাকে আমরা গাছ যাকে দিই সেই গাছ সে লাগাবে, সেটা রক্ষা করবে। সেই ডাটাবেজ আমাদের কাছে আছে। যাকে চারা দিয়েছি আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করি। আমরা মনে করি আন্তরিকতটাই বড়। আন্তরিকতা থাকলে চারা রক্ষা করা সম্ভব হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় বনাঞ্চল উজার হয়ে যাচ্ছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় গাছ নিধন বন্ধে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হবে। পদক্ষেপ নিতে আমরা প্রস্তুত আছি।’

সরকার ২০২২ সাল পর্যন্ত সরকারি প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে গাছ কাটা নিষিদ্ধ করেছে জানিয়ে প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘রাস্তার ধারে কিংবা ব্যক্তিগত বনে গাছ কাটা নিষিদ্ধ নয়।’

মন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষের এক কোটি চারা রোপণের পাশাপাশি চলতি বছরে বন অধিদফতর বিভিন্ন প্রকল্প ও রাজস্ব বাজেটের আওতায় ১৪ হাজার ৬৬৯ হেক্টর ব্লক বাগান, এক হাজার ৬১০ কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগান এবং উপকূলীয় এলাকায় ১০ হাজার ৭৭ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজনের মাধ্যমে ৭ কোটি ৪৬ লাখ ৮২ হাজার চারা রোপণ করেছে। এছাড়া জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে মোট ১৪ লাখ ৮০ হাজারটি বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলদ ওষধি বৃক্ষের চারা সারাদেশে রোপণের জন্য বিতরণ করা হয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার উপস্থিত ছিলেন।