রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



সিলেটে রায়হান হত্যা : এবার এএসআই আশেক এলাহি গ্রেফতার




বিশেষ প্রতিবেদক :: সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় ওই ফাঁড়ির প্রত্যাহারকৃত এএসআই আশেক এলাহিকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিনগত রাতে সিলেট মহানগর পুলিশ লাইন্স থেকে তাকে গ্রেফতার করেন মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মাহিদুল ইসলাম।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের।

তিনি বলেন, বুধবার রাতে রায়হান হত্যা মামলায় পিবিআই তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে।


এর আগে এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য টিটু চন্দ্র দাস ও হারুনুর রশিদকে গ্রেফতার করে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। এরমধ্যে পুলিশ কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে দু’দফায় ৮ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। কিন্তু ঘটনার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বুধবার তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

আলোচিত এই মামলায় বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির বরখাস্তকৃত আরেক কনস্টেবল হারুনুর রশীদকে গত ২৪ অক্টোবর পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই। তিনি বর্তমানে পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার রিমান্ড শেষে হারুনকে আদালতে তোলার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হানের মৃত্যু হয়।

রায়হান সিলেট নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার বিডিআরের হাবিলদার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরের রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে চাকরি করতেন।

এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু আইনে এসএমপির কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

১৪ অক্টোবর মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইয়ের টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরের কাস্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। সর্বোপরি লাশ কবর থেকে তোলার পর পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়।


নিহত রায়হানের মরদেহে ১১১ আঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে। এসব আঘাতের ৯৭টি ফোলা আঘাত ও ১৪টি ছিল গুরুতর জখমের চিহ্ন। এসব আঘাতগুলো লাঠি দ্বারাই করা হয়েছে। অসংখ্য আঘাতের কারণে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।