শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



জুড়ী হাসপাতালের ২০টি অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের সবগুলোই মেয়াদোত্তীর্ণ




সাইফুল্লাহ হাসান :: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপন যন্ত্রগুলো গত তিন বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ে আছে।


চার তলা বিশিষ্ট এই হাসপাতালের প্রতি তলার দেওয়ালে ঝোলানো আছে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র। তবে এসব যন্ত্রের একটিরও মেয়াদ নেই। ২০১৭ সালের ৩ আগস্ট শেষ হয়ে গেছে। তারপরও সেগুলো দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

হাসপাতালের প্রধান হিসাব রক্ষক দিপ্রাশ দাশ জানান, হাসপাতালে ২০টি অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র আছে। ভবন তৈরির সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেগুলো লাগিয়েছিলো। পরবর্তীতে এগুলো আর পরিবর্তন করা হয়নি।

স্থানীয় সাজিদ মাহমুদ বলেন, ‘বিভিন্ন সময় হাসপাতালে আসি। তবে আগুন নেভানোর যন্ত্রগুলো যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে তা খেয়াল করা হয় না। এখন তো মনে হচ্ছে হাসপাতালের রোগীরা ঝুঁকির মধ‌্যে রয়েছে।’

স্থানীয় একটি সংগঠনের জ‌্যেষ্ঠ সহসভাপতি আশরাফ আলী বলেন, ‘‘সম্প্রতি ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে এসি বিস্ফোরণে পাঁচ রোগীর মৃত‌্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর বেরিয়ে এলো এ হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রগুলোর মেয়াদ শেষ।

‘সরকার কোটি টাকা ব্যয়ে জনসাধারণের জন্য এসব প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের গাফিলতি আর অবহেলায় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেউতো আর অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের মেয়াদ আছে কি না সেদিকে খেয়াল করে না। সরকারি হাসপাতালের যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে হঠাৎ আগুন লাগলে কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেবে? এরকম উদাসীনতা একেবারেই কাম্য নয়।”

জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সমরজিৎ সিংহ বলেন, ‘হাসপাতালে অনেকগুলো অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রয়েছে। সেগুলোর মেয়াদ শেষ কি না তা জানা নেই। নিশ্চিত হয়ে বলতে হবে।’


কুলাউড়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘জানা মতে, কোনো কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যন্ত্রগুলো লাগিয়েছিলো। আমাদের পক্ষ থেকে লাগানো হলে মেয়াদের বিষয়টি অবশ্যই জানা থাকতো। যন্ত্রগুলোর মেয়াদ তিন বছর আগে শেষ হয়ে গেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিৎ ছিলো মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো পরিবর্তন করা।’

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. তৌহীদ আহমদ বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখছি। মেয়াদোত্তীর্ণ অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রগুলো সরিয়ে নতুন যন্ত্র স্থাপনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেওয়া হবে।’