শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



Sex Cams

চাকরির পেছনে না ছুটে যেভাবে সফল মৌলভীবাজারের জহিরুল




শাহ অলিদুর রহমান, মৌলভীবাজার :: মৌলভীবাজারের ক্ষেমসহস্র গ্রামের আবদুল আহাদের পুত্র জহিরুল ইসলামের বেড়ে ওঠা গেরস্ত পরিবারে। প্রায় দেড় দশক আগে উচ্চশিক্ষা শেষ করে বনে যান চাষি। এখন তিনি সফল। তার দেখাদেখি ওই গ্রামের অনেকে মাছ চাষসহ নানা ধরনের কৃষিকাজে জড়িয়ে আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে উঠছেন। কেউ চাইলেই তাকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেন জহিরুল।


কৃষক জহিরুলের পথচলা শুরু ২০০৬ সালে। ওই বছর সিলেট এমসি কলেজ থেকে সমাজ বিজ্ঞানে (মাস্টার্স) উচ্চশিক্ষা শেষ করেই জড়িয়ে পড়েন কৃষিকাজে। চাকরির পেছনে ছুটেননি একদিনও। যেহেতু তার জন্ম গেরস্ত পরিবারে। তাই চাষাবাদ দেখেই বড় হয়েছেন ছোট থেকে। তার বাবা আবদুল আহাদ ধান চাষের পাশাপাশি বাড়ির আশপাশের পরিত্যক্ত জমিতে কলাও চাষ করতেন। স্থানীয় প্রজাতির চম্পাকলা চাষ করে প্রতি বছর তার লাভ থাকত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। তাই শুধু ধান না, নানা রকম ফসলের চাষের সফল গল্পও তার জানা ছিল পরিবার থেকেই।

প্রথমদিকে বাড়ির চারকিয়ার জমিতে বেশ বড় তিনটি পুকুর খনন ও মাছ চাষ দিয়েই তার চাষি জীবনের শুরু। তখন তিনি অধিক উৎপাদনশীল তেলাপিয়া, পাঙাশ ও দেশি প্রজাতির মাছ পুকুরে চাষ করেন। এতে বিনিয়োগ ছিল ৮ লাখ টাকা। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই মাছ বিক্রি করার পর তার মূলধন দাঁড়ায় ১০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রথম বছরেই তার লাভ আসে ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা।
লাভজনক পুকুর চাষের পাশাপাশি তার বাবার মতোই পুকুরপাড়ে কলাচাষে আগ্রহী হন জহিরুল।

তবে, বাবার মতো চম্পাকলা চাষ না করে শবরি কলা চাষ করেন তিনি। সব ধরনের জমিতে এ প্রজাতির কলার ভালো ফলন হয় না। তাই তিনি স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহায়তায় শবরি কলা চাষে কয়েক দফা প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে ২০১৯ সালে রাজনগর কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ২০ থেকে ২৫ টাকা বিনিয়োগে প্রথম দফায় ২২০টি কলাগাছের চারা লাগান। শুরুতে ৩০ থেকে ৪০টি চারাগাছ মারা যায়। বেঁচে যাওয়া গাছে দশ মাস পর কলা ধরতে শুরু করে। প্রথমবার এ কলা বিক্রি না করে প্রতিবেশি ও আত্মীয়স্বজনদের উপহার দেন। পরের ধাফে ৮০ হাজার টাকার কলা বিক্রি করেন। সেই ছোট্ট বাগান এখন আর ছোট্টটি নেই, বেশ বড় বাগানে পরিণত হয়েছে। ওই বাগান থেকে জহিরুল এখন আর শুধু কলা বিক্রি করেন না, কলাগাছের চারাও বিক্রি করেন। তার বাগানের এক একটি চারার দাম ১০০-১২০ টাকা। এভাবেই তার আয়ে যোগ হচ্ছে নানা মাত্রা। অনেককে বিনামূল্যেও দিয়েছেন চারাগাছ। তার সফলতা দেখে বালিসহস্র, কর্নিসহ বেশ কয়েক গ্রামের লোকজন চারা নিয়ে কলা বাগান করতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।


শাকসবজিও চাষাবাদ করছেন জহিরুল। অর্থাৎ তার জমির সবটুকু জায়গাই তিনি উৎপাদনে উর্বর করে তুলেছেন। তার জমিতে উৎপাদিত বিষমুক্ত শাকসবজির ব্যাপক চাহিদা বলে জানান তিনি। পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যান। উন্নত জাতের একটি পেঁপে বাগানও রয়েছে তার। প্রচুর পেঁপেও ধরেছে তার বাগানে। পেঁপের কদরও অনেক।

এবার বৃষ্টিতে আগাম শীতকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। এ সময় অধিকাংশ শীতের শাকসবজি মাঠে থাকার কথা। কিন্তু বৃষ্টিতে তা নেই বলে জানান জহিরুল ইসলাম।

এ ছাড়া জহিরুল ইসলাম দেশিয় মোরগের খামারও গড়ে তুলেছেন। এখান থেকে তার বড় অঙ্কের আয় আসে। তবে, করোনার কারণে আপাতত তা বন্ধ রয়েছে খামারটি। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূলে এলে আবার খামার চালু করবেন। মাঠে চাষাবাদের পাশাপাশি বড়-আদর যত্নে তিনি লালনপালন করছেন বিভিন্ন জাতের কবুতর ও তিতিরপাখি। তার সফলতার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি ‘ইচ্ছাশক্তি’ এমনভাবেই নিজের পথচলাকে ব্যাখ্যা করেন জহিরুল ইসলাম।