রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



ধর্মপাশার এক গ্রামে ৭ লাশ, গ্রামজুড়ে শোকের কালো ছায়া

নিউজ ডেস্ক




সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়নের হাওরপাড়ের গ্রাম ইনাতনগর। হঠাৎ করেই যেন বদলে গেছে ইনাতনগরের চিত্র। যেখানে গ্রামের মানুষজনের উদয়-অস্ত হাওরের ছলছল জলরাশি সঙ্গে এক গভীর মিতালী। কে জানত সেই জলে ডুবেই মৃত্যু হবে এ গ্রামের ৭ জনের, আর পুরো গ্রাম ছেয়ে যাবে শোকের কালো ছায়ায়!


গত বুধবার মধ্যনগর বাজার ঘাট থেকে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে একটি যাত্রীবাহী ট্রলার ৩৫/৪০ জন যাত্রী নিয়ে নেত্রকোনার ঠাকুরাকোনার দিকে রওনা দেয়। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কলমাকান্দা উপজেলার বড়কাপন ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের সামনে গুমাই নদীতে গেলে বিপরীত দিক আসা একটি বাল্কহেড নৌকার সঙ্গে যাত্রীবাহী ট্রলারটির সংঘর্ষ হলে সঙ্গে সঙ্গে ট্রলারটি ডুবে যায়।

ট্রলারডুবিতে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়নের ইনাতনগর গ্রামের ৩ নারী ও ৪ শিশুসহ ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে একই উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের দুজন ও নেত্রকোনার মেদনী গ্রামের একজন রয়েছে।

ইনাতনগর গ্রামের হাবিকুলের মেয়ে রিতা আক্তার তার মা, ভাই ও বোনকে হারিয়েছেন। কাঁদতে কাঁদতে গলা ভেঙেছে তার। গলা দিয়ে যেন কথা বের হতে চায় না। রিতার বাবা চট্টগ্রামে চাকরি করায় খবর পেয়ে দেরিতে বাড়িতে পৌঁছায় বৃহস্পতিবার সকালে রিতার মা লাকী আক্তার, ছোট বোন টুম্পা আক্তার ও ছোট ভাই জাহিদ হাসানের লাশ দাফন করা হয়েছে। এ সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ইনাতনগর গ্রামের আবদুল ওয়াহাব বলেন, ‘স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী ধুবাওলা গ্রামের যাচ্ছিলাম। নিজে বাঁচলেও স্ত্রী ও ছেলেকে বাঁচাতে পারিনি। ৫ বছর বয়সী মেয়ে মনিরাকে বুকের মাঝে শক্ত করে ধরেছিলাম কিন্তু তীব্র স্রোতে মনিরা তার হাতছাড়া হয়ে যায়।’

এদিকে নিহত অনিক আহমেদ জনি গত কয়েকদিন আগে ইনাতনগর গ্রামে নানির বাড়ি বেড়াতে এসেছিল। ওইদিন সকালে নানীর সঙ্গে ওই ট্রলারে করে খালার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার সময় নানিসহ সে মারা যায়।


এদিকে নিহত লুৎফুন্নাহারের স্বামী বাদী হয়ে বাল্কহেড নৌকার ও যাত্রীবাহী ট্রলারের চালকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার কলমাকান্দা থাকায় একটি মামলা করেছেন। কলমাকান্দা থানা পুলিশ সেই মামলায় বাল্কহেড নৌকার ৫ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে গতকাল বিকালে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রমে থাকা কলমাকান্দা উপজেলা সহকারী কশিনার (ভূমি) অমিত রায় বলেন, ইনাতনগর গ্রামের যে দুজন নিখোঁজ রয়েছে বলে আমাদের জানানো হয়েছে, তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা বলেন, ‘নিখোঁজ কারও সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।

কলমাকান্দা থানার ওসি মাজহারুল করিম বলেন, পলাতক ট্রলারচালক সোহাগ মিয়াকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কাজী মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।