রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



কানাইঘাটে মাটিতে পুঁতে ফেলা হলো কোরবানির পশুর চামড়া

বিশেষ প্রতিবেদক




প্রতীকী ছবি

সিলেটের কানাইঘাটে ক্রেতা না থাকায় কোরবানির পশুর চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। শনিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনভর চামড়ার ক্রেতার জন্য অপেক্ষা করেও ক্রেতা না মেলায় চামড়াগুলো পুঁতে ফেলা হয়েছে।


জানা যায়, কানাইঘাট উপজেলায় প্রতি বছরের ন্যায় ঈদুল আজহার দিন শতশত পশু কোরবানি হলেও দিনভর অপেক্ষা করার পর কোন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চামড়া সংগ্রহ বা কোন ক্রেতা চামড়া ক্রয় করতে আসেনি। যার কারণে যারা কোরবানি দিয়েছেন তাদের গরু-ছাগল, মহিষের চামড়া দিন শেষে বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুঁতে ফেলেন।

যারা কোরবানি দিয়েছেন তারা আক্ষেপ করে বলেছেন, দিনভর কোরবানি চামড়া নিয়ে অপেক্ষা করলেও ক্রেতারা আসছেন না। আবার অন্যান্য বছর স্থানীয় মাদ্রাসা কিংবা এতিমখানা চামড়া নিলেও এবার তারাও নিচ্ছেন না পশুর চামড়া। আর নিজেদের সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় চামড়াগুলো মাটিতে পুঁতে দিতে হচ্ছে।

চামড়া হচ্ছে রপ্তানি যোগ্য একটি শিল্প পণ্য। গত কয়েক বছর থেকে চামড়ার দাম কমে গেলেও অনেক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এলাকাভিত্তিক কোরবানির চামড়া বিনা টাকায় সংগ্রহ করতেন। কিন্তু এবারের ঈদুল আযহার দিনে কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কেউ চামড়া বিনা টাকায় সংগ্রহ করতে দেখা যায়নি। যার কারণে হাজার হাজার গরু ও অন্যান্য পশুর চামড়া শেষ পর্যন্ত পুতে ফেলতে হয়।

গত বছর বিভিন্ন এলাকায় অনেক চামড়া ব্যবসায়ীরা এক প্রকার পানির দামে চামড়া ক্রয় করলেও এ বছর উপজেলার কোথাও কোন চামড়া ব্যবসায়ীদের দেখা যায়নি। যার কারণে রপ্তানিযোগ্য অনেক মূল্যবান পশুর চামড়া কেউ কিনতে না আসায় লক্ষ লক্ষ টাকার চামড়া পুতে ফেলা হয়।


আর মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, অন্যান্যবছর এলাকাভিত্তিক চামড়া কিনে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেও লাভ হয়নি। উলটো পরিবহন, লবণ কেনাসহ নানাখাতে বিপুল পরিমাণ খরচ করতে হয়। এতে ব্যবসায়ীদের বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। এজন্য এবার কেউ কোরবানির পশুর চামড়া কেউ ক্রয় করেনি।

এদিকে স্থানীয়ভাবে চামড়া সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা আছে কি-না জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বারিউল করীম খানকে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।