রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে সৌরভ, এখনও জানে না বাবা-মা ও দুই ভাই বেঁচে নেই

বিশেষ প্রতিবেদক




সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে নিহত পাঁচজনের চারজন এক পরিবারের সদস্য। এই দুর্ঘটনায় বাবা-মাসহ দুই যমজ শিশুসন্তান মারা গেছে।

এই পরিবারের একমাত্র বড় ছেলে সৌরভ দাস (১১) বেঁচে আছে। দুর্ঘটনায় সে আহত হয়েছে। তার মা-বাবা ও দুই ভাইকে কুমিল্লা ট্রান্সপোর্টের একটি বাস চাপা দিয়ে প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে নিহতের স্বজনদের আর্তনাদ করতে দেখা গেছে।


এ ঘটনায় গুরুতর আহত সৌরভ হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে। সে এখনও জানে না তার পরিবারের কেউ বেঁচে নেই। নিহত অপর ব্যক্তি হলেন প্রাইভেটকারের চালক আবুল হাশেম।

তারা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় আত্মীয়ের বাড়িতে সপরিবারে বেড়ানো শেষে শুক্রবার সকালে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের শ্যামারচরে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় দিকে সিলেট ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর এলাকার বড়ায়া চাঁনপুর নামক স্থানে পৌঁছালে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা কুমিল্লাগামী কুমিল্লা ট্রান্সপোর্টের সঙ্গে সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। হতাহতরা প্রাইভেটকারের যাত্রী।

নিহতরা হলেন- সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার শ্যামারচর গ্রামের স্বপন কুমার দাস ও তার স্ত্রী লাভলী রানী দাস ও আট বছরের তাদের দুই যমজ ছেলে সাজ কুমার দাস ও সাজন কুমার দাস এবং মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের বাসিন্দা প্রাইভেটকারচালক আবুল হাশেম।

গুরুতর আহত হয়েছেন স্বপন কুমার দাসের বড় ছেলে সৌরভ কুমার দাস। তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।


তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম বলেন, ঢাকা থেকে সিলেটগামী প্রাইভেটকারের সঙ্গে কুমিল্লা ট্রান্সপোর্ট বাসের সংঘর্ষে এক পরিবারের চারজনসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ওই পরিবারের অপর সদস্য গুরুতর আহত হয়েছে। হতাহতরা প্রাইভেটকারের যাত্রী। আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি মাইনুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট থেকে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া কুমিল্লা ট্রান্সপোর্টের একটি বাস ও ঢাকা থেকে সিলেটগামী একটি প্রাইভেটকারের লামা তাজপুরের তানপুর এলাকায় সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাসের নিচে ঢুকে যায় প্রাইভেটকার। সঙ্গে সঙ্গে প্রাইভেটকার দুমড়েমুচড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকারের পাঁচ যাত্রী নিহত ও একজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি এবং নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।


তিনি বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ঘটনার পরপরই কুমিল্লা ট্রান্সপোর্টের চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় ওসমানীনগর থানায় মামলা হয়েছে।