শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



শ্রীমঙ্গলে ছাগল খাওয়া সেই অজগর দিল ২২ বাচ্চা

নিউজ ডেস্ক




মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের মীর্জাপুর এলাকায় ২০০৩ সালে ছাগল খাওয়ার কারণে গ্রামবাসীর হাতে আটক হয় একটি স্ত্রী অজগর। পরে সেটি উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে রাখা হয়। সেই অজগরের ডিম থেকে ২২টি বাচ্চা ফুটেছে। বাচ্চা ফোটার অপেক্ষায় আছে আরো ৯টি ডিম।


এ নিয়ে অজগরটি পঞ্চমবারের মতো ডিম এবং চতুর্থবারের মতো বাচ্চা দিল বলে জানান বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল দেব।

তার দেয়া তথ্যমতে, এরপর ২০০৪ সালে প্রথম সেটি ৩২টি ডিম দেয় এবং ডিম থেকে বাচ্চা আসে। এরপর ২০০৭ সালে আবারো ২৯টি ডিম দেয় কিন্তু সে বছর ডিম থেকে বাচ্চা ফোটেনি সব ডিম নষ্ট হয়ে যায়।

২০১১ সালে আবারো ৩০টি ডিম দেয় এবং ডিম থেকে বাচ্চা ফোটে। ২০১৯ সালে ৩১টি ডিম দেয় এবং সেখান থেকে ২২টি বাচ্চা মিলে।

সর্বশেষ চলতি বছরের ২৮ মে ৩১টি ডিম দেয় মা অজগর। সেখান থেকে বুধবার রাত থেকে বাচ্চা ফুটতে শুরু করে। এখন পর্যন্ত ২২টি বাচ্চা ফুটেছে এবং বাকি ৯টি ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি আরো জানান, এর আগে সবগুলো বাচ্চাকে বড় হওয়ার পর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এবং সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়েছে। এ বছরও তাই করা হবে।

চলতি বছর সবচেয়ে ভালো বাচ্চা উৎপাদন সম্ভব হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অন্য বছর কিছু কিছু ডিম নষ্ট হয় কিন্তু এই বছর মনে হচ্ছে ৩১টি বাচ্চাই পাব। দেখা যাক কি হয়।


তিনি বলেন, আমরা তাকে পুরুষ সঙ্গী দিতে পারি না তাই নিয়মিত ডিম দিতে পারে না। মাঝে মাঝে যখন কোনো পুরুষ অজগর ধরে আনি তখন সে সময় দেয়, অবমুক্ত করে দিলে আবার সে একা হয় যায়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবির) প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ মনিরুল এইচ খান বলেন, সাপের বাচ্চা জন্ম নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে নিজে নিজে চলতে পারে, খাবার সংগ্রহ করতে পারে। জন্মের পর থেকেই স্বাবলম্বী বলা যায় এবং চাইলে অবমুক্তও করা যায়।