সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



জগন্নাথপুরে ডাকাত আতঙ্ক, চলছে রাত জেগে পাহারা

নিউজ ডেস্ক




সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার হাওর এলাকায় ডাকাত আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ডাকাতরা নৌকাযোগে হাওর সংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামের বাড়িতে হানা দিচ্ছে। প্রায় প্রতিরাতেই ডাকাতদের আক্রমণের ভয়ে গ্রামবাসী রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি হাওর অধ্যুষিত উপজেলার কলকলিয়া, চিলাউড়া হলদিপুর, রানীগঞ্জ, পাইলগাঁও ও আশারকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছেন। এ সুযোগে জলদস্যুরা নৌকাযোগে হাওর সংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামের বাড়িতে হানা দিচ্ছে।


গত বুধবার (১ জুলাই) রাতে উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের কিশোরপুর গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবদুল করিম গণির বাড়িতে হানা দেয় ডাকাতরা।

বাড়িতে থাকা তার বৃদ্ধা মা হুসনমা বিবি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে পানি বেড়ে যাওয়ার পর থেকে নৌকাযোগে ডাকাতদের আক্রমণ বেড়ে গেছে। আমার বাড়িতে বুধবার রাতে আক্রমণ করার চেষ্টা করলে আমি আত্মীয়-স্বজনদের খবর দিয়ে এনে সারা রাত জেগে পাহারা দেওয়ার ব্যবস্থা করলে ডাকাতরা পিছু হটে।

গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রকিব বলেন, প্রতিদিন ডাকাতরা নৌকাযোগে হানা দিচ্ছে। গত দুইদিনে গ্রামের গফুর মিয়া ও হান্দু মিয়ার বাড়ি থেকে ৭টি গরু নিয়ে যায়। ডাকাত আতঙ্কে আমরা রাত জেগে পাহারার ব্যবস্থা করেছি।

চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া জানান, বন্যা দেখা দেওয়ার পর থেকে জলদস্যুদের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। গরু চুরিও মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ইউনিয়নের অনেক গ্রামে রাত জেগে পাহারার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাশিম জানান, ইউনিয়নের কমপক্ষে ১০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় চোর-ডাকাতদের আতঙ্কে রয়েছেন। বিভিন্ন গ্রামে বেড়ে গেছে গরু চুরি। বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।


আশারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আবু ঈমানী বলেন, প্রতিদিন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে গরু চুরির খবর পাওয়া যাচ্ছে। রয়েছে জলদস্যুদের উৎপাত।

জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, জলদস্যুদের উৎপাত বন্ধে নৌ টহল জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ তৎপর রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।