মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ



মৌলভীবাজারে চাহিদা ৫ হাজার, পৌঁছেছে ১০০ পিপিই

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক




করোনাভাইরাস প্রতিরোধী নিরাপত্তামূলক পোশাকের অভাবে ঝুঁকিতে রয়েছেন মৌলভীবাজারের ডাক্তার নার্সসহ সংশ্লিষ্টরা। প্রাথমিকভাবে পাঁচ হাজার পিপিইর চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও মিলেছে মাত্র ১০০। এই ১০০ নিয়েও চিকিৎসকদের অভিযোগ তা নিম্নমানের।


মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাস থেকে ডাক্তার, নার্সসহ সংশ্লিষ্টদের সুরক্ষা দিতে পাঁচ হাজার পিপিইর চাহিদাপত্র দেয়া হয় কিন্তু এসেছে মাত্র ১০০।

সোমবারে (২৩ মার্চ) রাতে এই ১০০ পিপিই সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এসে পৌঁছালে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) তা বিতরণ করা হয়েছে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের মধ্যে।

এই ১০০ পিপিইর মধ্যে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকদের ২০টি, সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঁচটি, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচটি, জেলা সদরে বক্ষব্যাধি হাসপাতালে পাঁচটি এবং জেলায় বাকি ছয়টি উপজেলায় ১০টি করে পিপিই দেয়া হয়েছে।তবে এই ১০০ পিপিই শুধু ডাক্তারদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। করোনা রোগীসহ অন্যদের সার্বক্ষণিক দেখভালের দায়িত্বে থাকা হাসপাতালের নার্স, আয়া, ওয়ার্ডবয়সহ টেকনিশিয়ানরা এখনো কোনো নিরাপত্তা পোশাক পাননি।

এদিকে ডাক্তাদের মাঝে বিতরণ করা পিপিইর মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতামত হচ্ছে, একটি পিপিই একবার পড়া যাবে। কিন্তু আমাদেরকে বলা হচ্ছে এই একটিই প্রতিদিন জীবানুমুক্ত করে দেয়া হবে, এটিই বারবার পড়তে হবে। একেতো একটি পিপিই বারবার পড়তে হবে তার ওপর এই পিপিইর মান সন্তোষজনক নয়।


এদিকে পিপিই না পেয়ে নিজেদের নিরপত্তা নিয়ে শঙ্কিত মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের ডিপ্লোমা মেডিকেল ফেকাল্টির (ডিএমএফ) ইন্টার্ন ছাত্ররা। তারা নিরাপত্তা সামগ্রী না পেয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন।

তাদের সংঠনের সাধারণ সম্পাদক জাভেদ হোসেন ইমন জানান, আমরা ৬১ জন ছাত্র করোনার আতঙ্ক নিয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছি। বারবার কর্তৃপক্ষের সাথে পিপিই নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তারা প্রতিবারই ২ দিন ৩ দিনের সময় নিচ্ছেন কিন্তু দিতে পারছেনা না। আমাদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য যতক্ষণ না পিপিই পাচ্ছি আমরা কর্মবিরতি পালন করব। মঙ্গলবার দুপুর থেকে শুরু করেছি এ কর্মবিরতি।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন তউহীদ আহমদ জানান, মৌলভীবাজার জেলায় পিপিই কতগুলো লাগবে তা নির্ভর করছে আমাদের রোগীর চাপ কেমন হবে তার ওপর। প্রাথমিকভাবে আমরা পাঁচ হাজার পিপিইর চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। এখন পর্যন্ত যা পেয়েছি তা প্রয়োজনের তুলনার খুবই নগন্য। আমরা বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি সরকারি এবং বেসরকারি উপায়ে।


পিপিইর মানের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের যা আছে তা নিয়ের আমাদের লড়তে হবে। আমরা যা পেয়েছি তা দিয়েই রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

error: Content is protected !!