বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



Sex Cams

বড়লেখায় বইয়ের ঘ্রাণে প্রাণের মেলায় মানুষের ভিড়




এ.জে লাভলু :: নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। আগে থেকেই সাজিয়ে রাখা বইয়ের স্টলের সামনে ভীড় করেন লোকজন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি। অনেকেই এসেছে স্কুলের পোশাক পরে। পোশাকের বৈচিত্র্য দেখেই বোঝা যায় যে এরা উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের বইটি তুলে নিয়েছে হাতে। এসেছেন প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজের শিক্ষকরা। তারা নিজের জন্য, প্রতিষ্ঠানের জন্য কিনে নিয়েছেন বই।


গতকাল রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণটি ছিল এরকমই বইয়ের ঘ্রাণে প্রাণের মেলায় উৎসব-মুখর। বড়লেখা নজরুল একাডেমি একদিনের এই বইমেলা, বসন্ত ও পিঠা উৎসবের আয়োজন করে।

সকালে মেলা উদ্বোধন করেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নজরুল একাডেমির সভাপতি দীপক রঞ্জন নন্দী। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও একাডেমির উপদেষ্টা মো. তাজ উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম আল ইমরান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার উদ্দিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূসরাত লায়লা নীরা, বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা চিকিৎসক রত্নদ্বীপ বিশ্বাস, বড়লেখা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অরুন চক্রবর্তী, জুড়ী টি এন খানম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অরুন চন্দ্র দাস, জুড়ী শাহ্্ নিমাত্রা কলেজের অধ্যক্ষ জহির রায়হান, বড়লেখা সরকারি কলেজের অধ্যাপক মো. নিয়াজ উদ্দিন, নজরুল একাডেমির উপদেষ্টা জুনায়েদ রায়হান রিপন, উপদেষ্টা ও সাংবাদিক লিটন শরীফ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ফেসবুক ও ইন্টারনেটের কারণে বইপড়া কমে গেছে। এরকম একটা সময়ে উপজেলা পর্যায়ে নজরুল একাডেমি এই বইমেলা করে প্রমাণ করেছে এখনো বইয়ের চাহিদা কমেনি। বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ আছে। মানুষ বই পড়তে চায়, শিল্প-সাহিত্যের আনন্দ পেতে চায়।


অনুষ্ঠান মঞ্চে বইমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত বিভিন্ন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। এরমধ্যে আছে অরুন চন্দ্র দাসের কাব্যগ্রন্থ শিশির বিন্দু ও ভাটির দেশে মাটির ঘ্রাণ এবং প্রবন্ধগ্রন্থ সবার উপরে মানুষ, মৃণাল কান্তি দাসের কবিতার বই একদিন ছেড়ে যাব ও শিশুতোষ বই কিচ্ছা শোনার ইচ্ছা, হাসনা বেগমের কাব্যগ্রন্থ নন্দিত সকাল, কাওসার হামিদের গল্পগ্রন্থ যাপিত জীবনের কানাগলি, শাহেদ আহমদের কাব্যগ্রন্থ আর কত দূর, রুমানা ফারজানা লিনুর উপন্যাস রুমানা, সাইফুল্লাহ মনসুর ইছহাক ও সারিয়া আবেদীন ইতুর যৌথ ছোটগল্পের বই তোমার দেওয়া আমার কোনো নাম ছিল না এবং সবচেয়ে কনিষ্ঠ লেখক দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিবেকানন্দ দাসের গল্পের বই সুখে শোকে বাস। এই লেখকদের সবার বাড়ি বড়লেখাতে। এছাড়া লেখক আলমগীর শাহরিয়ারের কবিতার বই নিদাঘ দিনের গানেরও মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

বইমেলা ও বসন্ত উৎসবকে ঘিরে বেশকিছু পিঠার স্টল বসেছে। সেখানেও আগ্রহীরা ভীড় করেছেন। দাঁড়িয়ে পিঠা খেয়েছেন। নিরাপদ সড়ক চাই বড়লেখা উপজেলা শাখাকেও উৎসবে নিরাপদ সড়ক সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।


সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বইমেলা ও উৎসব। এই পুরো সময়টুকু যেমন বই বেচাবিক্রি হয়েছে। তেমনি মঞ্চে একক ও সমবেত গান, নাচ ও আবৃত্তি হয়েছে। জেলার প্রত্যন্ত এই জনপদে দ্বিতীয়বারের মতো বইমেলা ও বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছে নজরুল একাডেমি।