সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



সুনামগঞ্জে গুড়িয়ে দেওয়া হলো শহিদ মিনার সংলগ্ন স্থাপনা

নিউজ ডেস্ক




সুনামগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুখে বুধবার রাতে পুলিশের উপস্থিতিতেই গুড়িয়ে দেয়া হলো শহিদ মিনার সংলগ্ন গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক স্থাপনা।


১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ মুক্তদিবসের পরেই সুনামগঞ্জ শহিদ মিনারের নকশা করে মুক্তিযোদ্ধারা শহিদ মিনার নির্মাণ করে তাতে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছিলেন। এরপর থেকেই এটি সুনামগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার হিসেবে পরিচিতি পেয়ে স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে ওঠে।

সম্প্রতি শহিদ মিনার লাগোয়া বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে ওঠলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মুক্তিযোদ্ধারা। তারা অবিলম্বে এই স্থাপনা অপসারণের আহ্বান জানান। এ নিয়ে ডিসির সম্মেলন কক্ষে জরুরি দুটি বৈঠক হয়। বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধারা অবিলম্বে এই বাণিজ্যিক স্থাপনা অপসারণ করে নিতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।

অপসারণ না হলে মুক্তিযোদ্ধারা আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ শহিদ মিনারে ফুল না দিয়ে প্রতীকী শহিদ মিনার করে প্রতিবাদ স্বরূপ অন্যত্র শহিদদের শ্রদ্ধাঞ্জলি দেবেন বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

মুক্তিযোদ্ধারা জানান, শহিদ মিনারের সৌন্দর্য্য আড়াল করে সম্প্রতি পূর্বদিকে হঠাৎ করে মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছিল। এটি দেখার পর তাৎক্ষণিক মুক্তিযোদ্ধারা জেলা প্রশাসন ও পৌরসভায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন কোনো অনুমতি ছাড়াই স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন জেলার মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধা-জনতার আবেগ ও শ্রদ্ধার প্রতি সম্মান দেখিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন ‘সুনামগঞ্জ শহীদ মিনারের জায়গা সংক্রান্ত মামলার সবশেষ অবস্থা এবং জায়গার মালিকানা সংক্রান্ত তথ্যভিত্তিক বাস্তব প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপকমিটি’ গঠন করা হয়। ওই কমিটি এরইমধ্যে দুটি সভা করে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।


গত মঙ্গলবার স্থানীয় সরকারের উপপরিচালকের কক্ষে জরুরি সভায় মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. আলী আমজাদ, মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, মুক্তিযোদ্ধা মালেক হুসেন পীর, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদসহ সুধীজন অবিলম্বে নির্মাণাধীন বাণিজ্যিক স্থাপনা অপসারণের দাবি জানান।