সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



মৌলভীবাজারে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৭ অবৈধ ইটভাটা, ৬০ লাখ টাকা জরিমানা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক




মৌলভীবাজারের দুই দিনব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ৭ অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ইটভাটাকে ৬০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।


পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকায় এবং সনাতন পদ্ধতিতে ইট প্রস্তুত করার অভিযোগে জেলার রাজনগর, কুলাউড়া ও জুড়ী উপজেলার ৭ অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে, ভাটার চুল্লি (চুলা), ইট ও ইট প্রস্তুতের যন্ত্রপাতি গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ইসরাত জাহান পান্নার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট ও মৌলভীবাজার কার্যালয়ের কর্মকর্তাসহ আর্মড পুলিশের একটি দল অংশ নেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকালে হাকালুকির তীরবর্তী প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন (ইসিএ) আওতাভুক্ত এলাকায় জুড়ী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গুলশান আরা মিলির মালিকানাধীন এমকো ব্রিকস-১ ও এমকো ব্রিকস-২ (আসুকাবাদ ব্রিকস) ও বাবুল আহমদের মালিকানাধীন বাব (বিএবি) ব্রিকস’কে ২০ লক্ষ টাকা করে মোট ৪০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ সময় পরিবেশের ছাড়পত্র না থাকায় ও সনাতন পদ্ধতিতে ইট পুড়ানোয় ব্রিকফিল্ডের চুল্লি (চুলা) ও ইট গুড়িয়ে দেয়া হয়।

এর আগে ১১ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে রাজনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরালী গ্রামে কাজী খন্দকার ব্রিকসে অভিযান চালিয়ে চুল্লি গুড়িয়ে দেয়া হয়। এ সময় ইটভাটার মালিক উপস্থিত না থাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। পরে একই ইউনিয়নের কর্ণিগ্রামে অবস্থিত এসকে ব্রিকসকে নিয়ম না মেনে কাঠ পুড়ানো ও পরিবেশবান্ধব চুলা না থাকার অভিযোগে ২০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়। তাৎক্ষনিক ২ লক্ষ টাকা আদায় করে বাকী টাকা নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়।


একই অভিযোগে ওই ইউনিয়নের এম.আর ব্রিকস নামে একটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ভাটার চুলা ভেঙে দেয়া হয়। ওই দিন বিকেলে কুলাউড়া উপজেলার কৌলা এলাকায় মোনায়েম খানের মালিকানাধীন খান ব্রিকসে অভিযান চালিয়ে সনাতন পদ্ধতির চুল্লি ও ইট গুড়িয়ে দেয়া হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজার জেলার সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন অমান্য করে সনাতন পদ্ধতিতে ইটভাটাগুলো অবৈধভাবে ইট-প্রস্তুত করে আসছিল। দুই দিনব্যাপী জেলার তিন উপজেলার ৭ ইটভাটায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবৈধ ইটভাটায় এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।