শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ



বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ব্যাগ চোর হাতেনাতে ধরা

নিউজ ডেস্ক




বিদেশফেরত প্রবাসীরা যখন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন, তখন সহজে বহনযোগ্য তাদের হাতব্যাগে থাকে হাড়ভাঙা পরিশ্রমে অর্জিত বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদ। ছোট ব্যাগটি পরম যত্নে বিদেশ থেকে দেশে নিয়ে আসেন প্রবাসীরা। বিমানবন্দরের আনিুষ্ঠানিকতা শেষে বের হয়ে ক্যানোপিতে এলে দেখা হয় অপেক্ষমান আত্মীয়-স্বজনের সাথে। স্বাভাবিকভাবেই আপ্লুত হয়ে পড়েন প্রবাসী ও তার স্বজনরা। কিছুক্ষণের জন্য সবাই যেন সম্মোহিত হয়ে পড়েন। আর ঠিক এই মুহূর্তেই চুরি হয়ে যায় পরম যত্নে আগলে রাখা ছোট হাতব্যাগটি।


এরকম চার-পাঁচটি চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ (এপিবিএন)। সিটিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করে এপিবিএন দেখতে পায়, ছোট ব্যাগ চুরির সব ঘটনা ঘটিয়েছেন একজন ব্যক্তি।

তাকে ধরতে গত শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিমানবন্দরের ক্যানোপিতে অবস্থান নেন এপিবিএন সদস্যরা। বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি তাদের। প্রবাসীদের স্বজনদের ভিড়ে মিশে গিয়ে তাদের আবেগতাড়িত মুহুর্তে ব্যাগ চুরির সময় হাতেনাতে আটক হন ওই ব্যক্তি। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক বছরের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

কারাদণ্ডিত ব্যক্তির নাম আব্দুল কাদির (৪৫)। বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের লাগেজ-ব্যাগ চুরিই তার পেশা ছিল। তিনি বিমানবন্দরের কোনো কর্মী না হলেও ক্যানোপিতে এসে এমনভাবে দাঁড়িয়ে থাকতেন, যেন বিদেশফেরত কোনো প্রিয়জনকে নিতে এসেছেন।

বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ জানায়, আব্দুল কাদির ক্যানোপিতে ঘোরাফেরা করে নজর রাখতেন গাড়ির জন্য অপেক্ষমান কোনো প্রবাসীর ট্রলির দিকে। ট্রলির উপরে রাখা সহজে বহনযোগ্য ছোট হাতব্যাগটি হয় তার টার্গেট। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যাত্রীরা যখন গাড়িতে ওঠার জন্য ক্যানোপিতে আসেন তখন তাদের অনেকেই অপেক্ষমান স্বজনদের দেখে আবেগ আপ্লুত ও অন্যমনস্ক হয়ে পড়েন। ঠিক এই সুযোগে হাতব্যাগটি নিয়ে চম্পট দেন কাদির।


এ বিষয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ জামিল বলেন, আব্দুল কাদির প্রবাসীদের আবেগের সুযোগে লাগেজ চুরি করতেন। চুরির এমন ৪-৫টি অভিযোগ এপিবিএনের কাছে এলে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পর তাকে শনাক্ত করে গত শুক্রবার চুরির সময় হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে তাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

error: Content is protected !!