বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



ছোট হচ্ছে কুশিয়ারা নদী, মাছ নেই আগের মতো

খবর: বাংলানিউজ




পাকা সড়ক ধরে মিনিট তিনেক হাঁটলেই মৎস্যআড়ৎ। এর পাশ দিয়ে নীরবে বয়ে গেছে কুশিয়ারা নদী। এই সেই কুশিয়ারা! এ নদী ঘেষেই স্থানীয় কারো না কারো শৈশব, কৈশোর, যৌবন কিংবা বৃদ্ধকাল সব অতিবাহিত হয়ে মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে।


চারদিকে মাছ কেনাবেচা মানুষের ভিড়। হট্টগোল। বিশেষ প্রজাতির মাছ ঘিরে নিলামের দরদাম হাঁকা। সামান্য বাড়তি টাকার ডাক উচ্চঃস্বরে প্রকাশ পেতেই প্রত্যাশিত মাছগুলো নিলামের অংশগ্রহণকারী কোনো একজনের হয়ে যায়।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী আয়েস উদ্দিন। কৌতূহল নিয়ে এগিয়ে এসে বলেন, কুশিয়ারা তো ভরাট হয়ে গেছে। আগের মতো নদীতে মাছ নেই। পানির গভীরতাও নেই।

মাছের আড়তের পাশে অবস্থিত শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ি। এখানে ব্যক্তিগত কাজে আসেন তিন বৃদ্ধ। তাদের নাম যথাক্রমে মাসুদ মিয়া, আবদুর রহমান এও রাব্বান মিয়া। তাদের কাছে প্রশ্ন ছিল- কুশিয়ারা নদীর মাছ এখন নিয়মিত খেতে পাচ্ছেন কি?

এই প্রশ্নে প্রথমেই মুখ খুলেন আবদুর রহমান। তিনি জানান, নদীর মাছ পাইতাম কইবা? আর দাম তিনগুণ-চাইরগুণ।’ তার রেশ ধরে মাসুদ মিয়া বলেন, ‘বাবারে, আমরা জিলা (যেমন) মাছ খাইছি; তোমরা ইলা (এরকম) খাইছো না। ইতা (এ সকল) কথা আইজ (আজ) স্বপ্নের লাখান (মতো) মনে হয়।



তার কথার রেশ ফুরাতে না ফুরাতেই ‘ইলিশ’ প্রসঙ্গ চলে আসে। রাব্বান মিয়া জোর দিয়ে বলে ওঠেন- ‘কুশিয়ারা নদীর থাকি (থেকে) ইলিশ মাছও মারি (মেরে) খাইছি। আইজ তোমরা ইটা (এটা) শুনলে হাসিবায় (হাসবে)।

প্রতিদিন এই আড়তে মাছ কিনতে আসেন মধ্যবয়সী মৎস্যজীবী কাওসার মিয়া। এই নদীর সঙ্গে তার নাড়ির সম্পর্কে। সেই বহু বছর আগে থেকে বাবার সঙ্গে এ ব্যবসায় নেমেছেন। বাবার অবর্তমানে এখন তিনি একাই সামলান পুরো ব্যবসা। এখান থেকে মাছ কিনে গোয়ালাবাজার কিংবা সিলেট শহরে মাছ বিক্রি করেন।

তিনি এ সম্পর্কে বলেন, গত দশ/পনেরো বছর কুশিয়ারা নদীর মাছ তেমনভাবে পাওয়াই যায় না। আগের মতো মাছ নেই কুশিয়ারাতে। এখন মাত্র দশভাগ নদীর মাছ পাওয়া যায়। নদী ভরাট হয়ে গেছে। আগে যে জেলেরা এখানে মাছ ধরতো এখন তারা আর মাছ ধরে না। এখন যে মাছ দেখছেন সব ফিশারির মাছ। পার্শ্ববর্তী ফিশারি বা ঘের থেকে মাছ আসে এই আড়তে। আমরা ফিশারির মাছই কিনে নিয়ে যাই।

আক্ষেপ প্রকাশ করে কাওসার আরো বলেন, ভাই কী বলবো দুঃখের কথা! অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের ভয়ে স্থানীয় জেলেরা নদীর মোহনায় মাছ ধরতে ভয় পায়। তাদের বাধা দেওয়া হয়। তাছাড়া ভরাট হয়ে যাওয়া আমাদের এ নদীকে নিয়োমিতভাবে খনন করে বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন।

‘নদীর মাছ’ এর দরদাম সম্পর্কে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে বড় মাছ পাওয়া যায় খুব কম। প্রচুর চাহিদা থাকায় পাওয়া মাত্রই বিক্রি হয়ে যায়। বোয়াল কেজিপ্রতি ৮০০, রুই কেজিপ্রতি ৮৫০/ (৫ কেজির বেশি হলে), কাতল কেজিপ্রতি ৬০০, কার্ফু কেজ প্রতি ৩০০, বাচা মাছ কেজিপ্রতি ৮০০, কাজুলি (স্থানীয় নাম আনু মাছ) কেজিপ্রতি ৬৫০, চিতল কেজিপ্রতি ৮০০, কৈ কেজিপ্রতি ৫৫০, শোল কেজি প্রতি ৪৫০, শিং-মাগুর কেজিপ্রতি ৫৫০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে জাতি মাছ যেমন আইড় (ঘাঘট), চিতল, বোয়াল, প্রভৃতি মাছ কেজির পরিবর্তে আস্ত বিক্রি হয়।


সকালে কুশিয়ারা নদী থেকে সাড়ে পাঁচ কেজি একটা চিতল ধরা হয়ে হয়েছে। এটা আমি সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি। বিক্রি করবো চার হাজার টাকায়। জানান কাওসার।