বুধবার, ৩ জুন ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কারের বিরুদ্ধে ১৬ বছর ধরে এক বাংলাদেশি শেফের লড়াই

প্রবাস ডেস্ক




যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কারের বিরুদ্ধে ১৬ বছর ধরে দেশটিতে লড়াই করছেন একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শেফ। কোনও অপরাধ না করেও কর্তৃপক্ষের ভুলে যৌন অপরাধের জন্য অভিযুক্ত হন তিনি। এর জেরে যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার মতো বিপদ ভর করে তার ওপর। ফলে বছরের পর বছর ধরে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে।


কর্তৃপক্ষের ভুলে যৌন অপরাধের জন্য অভিযুক্ত হওয়ায় ইতোমধ্যেই তার কাছে ক্ষমা চেয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

সাইফুল ইসলাম ২০০৩ সালে একটি রেস্তোঁরায় কাজ করার ওয়ার্ক পারমিটে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। কিন্তু শোষণের শিকার হওয়ায় তাকে নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের এবং চাকরি পরিবর্তন করতে হয়। তার নতুন ওয়ার্ক পারমিট ফাইলটি স্বরাষ্ট্র দফতরে অন্যদের সঙ্গে মিশে যায়। এ ভুলের কারণে তাকে এ পর্যন্ত ১৮টি মামলা এবং স্বরাষ্ট্র দফতরের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ চিঠিপত্র বিনিময় করতে হয়েছে।

৪৪ বছরের সাইফুল ইসলাম বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ওয়েলসের কার্ডিফ এলাকায় বসবাস করছেন। নির্দোষ হয়েও যৌন অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করার ঘটনায় তার কাছে ক্ষমা চেয়ে পাঁচ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দিয়েছে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দফতর।

গত মাসে, যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন চেম্বারের আপার ট্রাইব্যুনালে বিচারক জ্যাকসন এ বিষয়ে একমত হন যে, সাইফুল ইসলামের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকে একাধিক ত্রুটি হয়েছিল। তবে, তার যুক্তরাজ্যে বসবাসের আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। কেননা, ২০০৮ সালের ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত ঘটনার জেরে তিনি দেশটিতে বসবাসের যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হন। কিন্তু সাইফুল ইসলামের দাবি, ২০০৮ সালে তার কোন ওয়ার্ক পারমিট না থাকার পেছনে একাধিক কারণ ছিল। এর একটি হচ্ছে স্বরাষ্ট্র দফতর ভুল করে তাকে যৌন অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করেছিল। তার ফাইলের কিছু অংশ বিনষ্ট করে ফেলা হয় এবং অন্য একটি মামলায় তা আদালতে উত্থাপন করা হয়নি।


সাইফুল ইসলাম আইনসঙ্গতভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করলেও এর প্রমাণ হিসেবে তার পাসপোর্টের প্রাসঙ্গিক পৃষ্ঠাগুলোও আদালতকে দেওয়া হয়নি। ফলে আদালত তাকে বহিষ্কারের আদেশ দিলে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শপথ নেন তিনি। বরং স্বরাষ্ট্র দফতরের বিরুদ্ধে তাকে মানবিকভাবে না দেখার অভিযোগ এনেছেন তিনি।

সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি বহু বছর হারিয়েছি, স্বাস্থ্য হারিয়েছি, প্রচুর অর্থ হারিয়েছি। আমার যে সময় নষ্ট হয়েছে তা আর ফিরে পাবো না। তবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

স্বরাষ্ট্র দফতর যে যৌন অপরাধের ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করেছিল সেটি যে ভুল ছিল তা বের করে আনার প্রক্রিয়া ছিল খুবই জটিল। কেননা, এ সংক্রান্ত ফাইলের অনুলিপি পেতে সাইফুলকে দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছিল।

সাইফুল বলেন, আমি আমার রেসিডেন্স স্ট্যাটাস ও ন্যায্য ক্ষতিপূরণ চাই।

২০০৫ সাল থেকেই যুক্তরাজ্যে বসবাস ও কাজের অধিকারের জন্য লড়াই করছেন সাইফুল। তিনি তার সাবেক নিয়োগকর্তার দ্বারা আধুনিক দাসত্বের শিকার হন। ওই নিয়োগকর্তা তাকে মারধরের পাশাপাশি দৈনিক ১৮ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য করেছিল।

একাধিক মামলার বর্তমানে ঋণের ভারে জর্জরিত সাইফুল। পাওনাদারদের ঋণ পরিশোধের জন্য তিনি তার ১৫ বছরের আইনি লড়াইয়ের অবসান চান।