মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ




ট্রেন দুর্ঘটনা, শ্রীমঙ্গলে বিয়ের দাওয়াত খেয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন ফারজানা

নিউজ ডেস্ক




মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল খালাতো বোনের বিয়ে খেতে গিয়েছিলেন চাঁদপুরের ফারজানা আক্তার (২০)। মা, ভাই-বোন, মামি আর নানির সঙ্গে ৭ নভেম্বর সিলেটে পৌঁছান তারা। বোনের বিয়ের আনন্দ শেষে ১২ নভেম্বর শ্রীমঙ্গল থেকে উদয়ন এক্সপ্রেসে চড়ে বসেন তারা। ইচ্ছে ছিল লাকসাম স্টেশনে নেমে চাঁদপুর ফিরবেন। কিন্তু তার আর বাড়ি ফেরা হলো না। গুরুতর আহত হয়ে পরিবারের অন্য সদস্যরা হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও ফারজানা বাড়ি ফিরেছেন লাশ হয়ে।


মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের উত্তর বালিয়া গ্রামে বেপারী বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে স্বজনদের আহাজারি। সেখানে উপস্থিত স্থানীয়রা জানায়, গ্রামের দুবাই প্রবাসী বিল্লাল বেপারীর মেয়ে ফারজানা। ৫ বছর আগে চাঁদপুর শহরের নাজিরপাড়া দেওয়ান বাড়ির মোহন দেওয়ানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তবে তাদের কোনও সন্তান নেই।

ফারজানার পরিবারের আহত সদস্যরা হলেন, তার মা বেবী বেগম (৪০), ভাই হাসান বেপারী (২৮), নানি ফিরোজা বেগম (৭০), মামি শাহিদা বেগম (৪০), মামাতো বোন মিতু (১৭), ইলমা (৭) ও মামাতো ভাই জুবায়ের (৩)। আহতরা ঢাকা ও বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

ফুফাতো বোন আয়েশা আক্তার জানান, ট্রেন দুর্ঘটনায় আমাদের পরিবারে আরও ৮ জন গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেকে পঙ্গুও হয়ে যেতে পারেন।

প্রসঙ্গত, সোমবার রাত ৩টার দিকে কসবা উপজেলার মন্দবাগে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা ও সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন দুটির মধ্যে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। এতে উদয়ন ট্রেনের কয়েকটি বগি আরেকটি ট্রেনের ওপর উঠে যায়। স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, তূর্ণা নিশীথা ট্রেনকে মন্দবাগ রেলস্টেশনে দাঁড়ানোর জন্য সিগন্যাল দেওয়া হয়। ওই সিগন্যালে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস প্রধান লেন থেকে ১ নম্বর লাইনে যেতে শুরু করে। ট্রেনটির ছয়টি বগি ১ নম্বর লাইনে উঠতে পেরেছিল। অন্য বগিগুলো প্রধান লেনে থাকা অবস্থায় তূর্ণা নিশীথা সিগন্যাল অমান্য করে। এতেই দুর্ঘটনা ঘটে। উদয়নের তিনটি বগি দুমড়ে মুচড়ে গেছে। এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহত ও অর্ধ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।


error: Content is protected !!