মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ




ইসলামভীতির তদন্ত নিয়ে পিছু হটায় সমালোচনার মুখে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক




যুক্তরাজ্যে ইসলামভীতির তদন্তে গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ সরকার ইসলামোফোবিয়া নিয়ে প্রতিশ্রুত তদন্তকে সাধারণ পর্যায়ের তদন্তে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। জনসন বলেন, কুসংস্কার তদন্তের দিকে নজর দিতে হলে একই সময়ে সব ধরনের কুসংস্কার তদন্ত করা উচিত।


প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্ব পাওয়ার প্রচারের সময় দলের মধ্যে মুসলিমবিরোধী ঘৃণার তদন্ত শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বরিস জনসন। তবে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

মুসলিমবিরোধী ঘটনার স্বাধীন তদন্তের দাবিতে প্রচারণা চালানো টরি পার্টির সাবেক চেয়ারপার্সন ব্যারনেস সাঈদা ওয়ারসি বলেন, ‘আমরা এককভাবে দলের মধ্যে ইসলামফোবিয়া ও বর্ণবাদ রুখতে ব্যর্থ হয়েছি। কনজারভেটিভ পার্টিতে ব্রিটিশ মুসলিমদের জন্য পরিবেশ আসলে বৈরী।’

বিরোধী লেবার পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আফজাল খান এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাজ্য জুড়ে ‘মুসলিমদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করেছেন।

তবে যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর ও জনসনের সিনিয়র মুসলিম মন্ত্রিপরিষদ মন্ত্রী সাজিদ জাভিদ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি কুসংস্কারের তদন্তের দিকে নজর রাখেন তবে ঠিক আছে। একই সঙ্গে আপনি অন্য সব ধরনের কুসংস্কারের দিকে নজর দিন- আমি এটাকে একেবারেই ভিন্নভাবে দেখি না।’


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কয়েকটি মুসলিমবিরোধী খবরের ঘটনায় কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যদের মধ্যে ইসলামফোবিয়ার অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত করার আহ্বান জানানো হয়। এ বছরের গোড়ার দিকে মুসলিম কাউন্সিল অফ ব্রিটেন (এমসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে সমতা ও মানবাধিকার কমিশনকে (ইএইচআরসি) এ বিষয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত করতে অনুরোধ জানায়।

এমবিসির একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা ইসলামফোবিয়ার বিষয়ে সম্পূর্ন ও স্বতন্ত্র তদন্তের চেয়ে কম কিছু আশা করি না।’

error: Content is protected !!