সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ


 




কুলাউড়ায় ৭ বছরের শিশুকে বলাৎকারের পর হত্যা করলো দুই ভাই

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক





মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় পলাশ শব্দকর (৭) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বেলা সাড়ের ১১টার দিকে স্থানীয় কালিটি চা বাগানের একটি জঙ্গল থেকে পলাশের লাশ উদ্ধার করা হয়। বলাৎকারের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত পলাশ শব্দকর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বালিচিরি এলাকার পরিমল শব্দকরের পুত্র। সে স্থানীয় শংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ছাত্র।


এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় বালিচিরি গ্রামের মিরজান আলীর পুত্র জায়েদ আলী (১৪), তার চাচাতো ভাই একই এলাকার চাঁন মিয়ার পুত্র রাহেল মিয়া (২০) ও সন্দেভাজন হিসেবে জায়েদের পিতা মিরজান আলীকে (৪৫) আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের গত ৩১ জুলাই বুধবার সকাল ১১টার দিকে ঘর থেকে বের হয়ে যায় পলাশ। এ সময় তার পার্শ্ববর্তী বাড়ির মিরজান আলীর পুত্র জায়েদ আলীর সাথে ঘুরতে দেখেন স্থানীয়রা। এরপর থেকে তার আর কোন খোঁজ পায়নি পরিবার। জায়েদকে তার মা বাবা জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় পলাশকে দেখেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির করার পর তাকে না পেয়ে পলাশের পিতা পরিমল ওইদিন সন্ধ্যায় কুলাউড়া থানায় একটি জিডি করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার কুলাউড়া থানার এসআই দিদার উল্লাহ সন্দেহভাজন হিসেবে জায়েদকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

স্থানীয়রা জানান, পলাশকে বলাৎকারের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, মরদেহের ময়নাতদন্ত হলে বিষয়টি পরিষ্কার জানা যাবে।


আটক জাহেদ আলী পুলিশকে জানায়, জাহেদ ও রাহেল পলাশকে চা-বাগান এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে বড় গাছে পাখির বাসা থেকে বাচ্চা এনে দিতে পলাশকে গাছে ওঠায় তারা। একপর্যায়ে গাছ থেকে নামতে গিয়ে নিচে পড়ে পা ভেঙে যায় পলাশের। এ সময় শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে জাহেদ ও রাহেল শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা না করে গভীর জঙ্গলে শ্বাসরোধে হত্যা করে চলে যায়।

পলাশের মা সন্ধ্যা শব্দকর জানান, ‘সকালে খাওয় দাওয়া করে সকাল ১১টার দিকে বাড়ির সামনের একটি ক্ষেতে জায়েদ আলী ধান রোপণ করছে দেখে আমার ছেলেও জায়েদের সাথে ধান রোপণ করতে যায়। ধান রোপণ শেষে ১২টার দিকে জায়েদের সাথে কালিটি চা বাগানের দিকে যেতে দেখি। ঘণ্টাখানেক পর জায়েদ ফিরে আসলেও আমার ছেলে আসেনি। আমার ছেলে কোথায় জানতে চাইলে জায়েদ আমার ছেলেকে দেখেনি বলে জানায়।’


বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে কুলাউড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বলেন, বলাৎকারের বিষয়টি বলছেন স্থানীয়রা। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।


error: Content is protected !!