বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ




বড়লেখায় অপহৃত স্কুলছাত্র ওয়াহিদকে পাওয়া গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক




অপহরণ হওয়ার ১৩ দিন পর মৌলভীবাজারের বড়লেখার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বোবারতল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র আব্দুল ওয়াহিদকে (১৬) পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১৯ জুলাই) সকাল নয়টার দিকে বড়লেখা পৌরশহরে তাকে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ সকাল দশটার দিকে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।


গত ৭ জুলাই আব্দুল ওয়াহিদ সিলেটের বিয়ানীবাজার থেকে অপহৃত হয়েছিল।

বড়লেখা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রশিদ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকেলে বলেন, ‘অপহৃত স্কুলছাত্র আব্দুল ওয়াহিদকে বড়লেখা পৌরশহরে পাওয়া গেছে।


আরও পড়ুন: বড়লেখার অপহৃত স্কুলছাত্র উদ্ধার হয়নি, মুক্তিপণ আদায়কারী আটক



প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওয়াহিদ জানিয়েছে, সে নিজেই ফিরে এসেছে। আমরা স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করেছি। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ছেলেটা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। সে কীভাবে ফিরে এসেছে, তা তার সঙ্গে কথা বলে জেনে পরে জানাবো।’

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই উপজেলার বোবারতলের ইসলামনগর গ্রামের ইকবাল হোসেনের ছেলে আব্দুল ওয়াহিদ এক লেবু বিক্রেতার সঙ্গে সিলেটের বিয়ানীবাজার দেখার জন্য ঘুরতে যায়। এরপর সেখান থেকে ওয়াহিদ উধাও হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।


এ ঘটনায় আব্দুল ওয়াহিদের বাবা ইকবাল হোসেন গত ৯ জুলাই বড়লেখা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরই মধ্যে গত ১৬ জুলাই দিবাগত রাত একটার দিকে স্কুল ছাত্রের মুঠোফোনে তার বাবা যোগাযোগের চেষ্টা করেন। এই সময় মুঠোফোনে কল ধরেন মুক্তিপন আদায়কারী কামাল মিয়া।

কামাল এ সময় স্কুল ছাত্রকে দিয়ে তার পরিবারের সাথে কথা বলিয়ে দেন এবং ছেলেকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। এতে ওই ছাত্রের পরিবার ছেলেকে ফিরে পেতে টাকা দিতে রাজি হয়ে যায়। কামাল মিয়া তখন একটি বিকাশ নম্বর দেয় টাকা পাঠানোর জন্য। ছেলেকে ফিরে পেতে স্কুল ছাত্রের পরিবার প্রথমে দশ হাজার টাকা বিকাশ নম্বরে পাঠায়।


এই বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরেই বড়লেখা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রশিদ উদ্দিন ঘোয়াইনঘাট থানায় যোগাযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই থানার পুলিশ ও স্থানীয় বাজারের লোকজনের সহায়তায় কামাল মিয়াকে আটক করা হয়। এই ঘটনায় স্কুল ছাত্রের বাবা ইকবাল হোসেন গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বাদী হয়ে থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে অপহরণ মামলা করেন।

error: Content is protected !!