সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ


 




সুনামগঞ্জে সড়কের সর্বনাশ, যোগাযোগ দুর্ভোগে ১১ উপজেলার ২৫ লাখ মানুষ

নিউজ ডেস্ক





টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা সড়কসহ গ্রামীণ সড়কের সর্বনাশ ঘটেছে। অনেক স্থানেই সড়কের উপর দিয়ে চলছে নৌকা। কোথাও কোথাও সড়কে ‘না নৌকা-না তর’ অর্থাৎ নৌকাও চলছে না, পায়ে হেঁটেও চলাচল করা যাচ্ছে না এমন অবস্থা হয়েছে। বানের তোড়ে গ্রামীণ সড়কের ৫১ স্থান ভেসে গেছে। বিটুমিনের সড়কও পানির নীচে গেছে, যেখানে পানি ওঠেনি, লাগাতার বৃষ্টিতে সেসব অংশে এমনভাবে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে, রিকশা বা সিএনজি অটো রিকশায় ওঠলে কোমর ভাঙার মতো অবস্থা। এই অবস্থায় যোগাযোগ দুর্ভোগে পড়েছেন ১১ উপজেলার প্রায় ২৫ লাখ মানুষ।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর ও রঙ্গারচর ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রামীণ সড়ক পানির নীচে ডুবেছে। কোন কোন অংশ পানির তোড়ে ভেসে গেছে।

সুনামগঞ্জ শহরতলির সুনামগঞ্জ-ধারারগাঁও-হালুয়ারঘাট সড়কের বেশ কিছু অংশ ভেঙেছে। সড়কের উপর দিয়ে সুরমা নদীর কূল উপচে পানি যাওয়ায় খানখন্দ সৃষ্টি হয়েছে স্থানে স্থানে। পৌরসভার সকল সড়কেরই বেহাল অবস্থা। খানাখন্দ ১ থেকে ২ ফুট পর পর। যানবাহনে চলাচল করাই কঠিন।

সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের চালবন্দ থেকে কাছিরগাতি পর্যন্ত খানাখন্দ। যানবাহন চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সড়ক থেকে বাজার পর্যন্ত সড়কে হাঁটু সমান পানি। এই সড়কের, ‘না নায়- না পায় অবস্থা’।


সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কের চিকশা থেকে আনোয়ারপুর পর্যন্ত কোথাও ভেঙেছে, কোথাওবা হাঁটু থেকে বুক সমান পানি। এই উপজেলার বাগলী থেকে বারেকের টিলা পর্যন্ত ১০ স্থানে ভেঙেছে। এই সড়কে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি।

দোয়ারা-ছাতক সড়কের স্থানে স্থানে পানি ওঠেছে। এই সড়কের দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের সামনের অংশ সুরমা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। সড়কের মাঝেরগাঁও, মংলারগাঁও অংশে হাঁটু সমান পানি। দোয়ারা-বাংলাবাজার ব্রিটিশ সড়ক পানির নীচে। দোয়ারাবাজার-ভোগলা সড়কের শরিফপুর থেকে শ্রীপুর, টেংরা থেকে আজবপুর অংশে ৩ থেকে ৪ ফুট পানি। এই সড়কের মাহমুদপুরের পাশের অংশ ভেঙে গেছে।

সুনামগঞ্জ-সাচনা বিটুমিনের সড়কের সেরমস্তপুর সেতুর পাশে হাঁটু সমান পানি। নিয়ামতপুর সেতুর পাশে এবং ইচ্ছারচর বাজারের পাশের সড়কেও পানি। জামালগঞ্জ-নয়াহালট সড়কের কামলাবাজ অংশ ভেঙে গেছে।


ধর্মপাশা-মধ্যনগর সড়কের গলইখালী অংশ ডুবে আছে। ধর্মপাশা- জয়শ্রী সড়ক পানির নীচে। এই সড়কের বেহাল দশা। মধ্যনগর-বংশিকুণ্ডা সড়কও পানির নীচে। বন্যায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এই ছয় উপজেলা ছাড়াও ভাটির দিরাই-শাল্লা, জগন্নাথপুর, ছাতক ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জেও টানা ভারী বর্ষণে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ভারী বর্ষণ এবং সড়কের উপরে পানি ওঠায় ১৫০ কিলোমিটার সড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। পানির নীচে ডুবে আছে ৩০ কিলোমিটার সড়ক।

সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ জানান, বিটুমিনের ৬০০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২০০ কিলোমিটার অংশে পানি ওঠেছে। এখনো কোথাও কোথাও পানি আছে। ৯০০ কিলোমিটার আরসিসি সড়কের ৮০০ কিলোমিটার এখনো পানির নীচে। ৫১ টি অংশ ভেঙেছে। ১৫০ টি সেতুর অ্যাপ্রোচ ধসেছে। দেড় কিলোমিটার আরসিসি সড়ক ভেসে গেছে।



error: Content is protected !!