বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ





বড়লেখায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুন্দরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক




মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন দাসেরবাজার, বর্ণি, তালিমপুর ও নিজবাহাদুর ইউনিয়নের লোকজন। এ সময় তারা বড়লেখা-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে তাঁর গ্রেপ্তার দাবি করেন।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় দেশীয় অস্ত্রসহ মিছিল সহকারে পৌর শহরের উত্তর চৌমুহনী এলাকায় এসে তারা সড়ক অবরোধ করেন। পৌনে ১২টা পর্যন্ত এ অবরোধ চলে। এ সময় বড়লেখা-কুলাউড়া আঞ্চলিক সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।


আরও পড়ুন: ছেলের জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দিলেন বড়লেখার এক ‘মা’!


দাসেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিনের গায়ে হাত তুলে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চলের লোকজন বিক্ষোভ মিছিলসহ এ অবরোধ করে।


পরে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান, প্রশাসন, পৌরসভার মেয়র ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে রফিকুল ইসলাম সুন্দরকে গ্রেপ্তারে ২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে অবরোধ তুলা হয়।

জানা গেছে, বুধবার (১৯ জুন) সকালে কুশল বিনিময়কে কেন্দ্র করে সাবেক বড়লেখা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর সাবেক দাসেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিনের গায়ে হাত তুলে লাঞ্ছিত করেন। এতে মাহতাব উদ্দিন পায়ে ও হাতে আঘাত পান। পরে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বড়লেখা উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটেছিল।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিনুল হক ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)। এ ঘটনায় থানায় সুন্দরের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দাসেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহতাব উদ্দিন।

অপরদিকে এই ঘটনা মাহতাব উদ্দিনের ইউনিয়ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনগনের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি প্রবীণ মুরব্বির গায়ে হাত তুলার ঘটনায় উত্তর ও পশ্চিম অঞ্চলের তালিমপুর, বর্ণি ও নিজবাহাদুরপুরের লোকজনের মাঝেও এ ক্ষোভ দেখা দেয়।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় প্রায় সহশ্রাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্রসহ মিছিল সহকারে বড়লেখা শহরের দিকে রওয়না দেন। এই খবর পেয়ে পুলিশ, নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ গণ্যমান্য লোকজন তালিমপুর এলাকায় গিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের আটকানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে শহরের উত্তর চৌমুহনী এলাকায় পুলিশ পুনরায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় ব্যরিকেড সৃষ্টি করে তাদের আটকায়। তখন সেখানে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। তারা সুন্দরকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বিক্ষোভ করে।


ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়ে অবরোধ তুলে নেওয়ার আহবান জানিয়ে বক্তব্য দেন বড়লেখা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার উদ্দিন, পৌর মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী, পৌর কাউন্সিলর আব্দুল মালিক জুনু প্রমুখ। অন্যদিকে অবরোধকারীদের পক্ষে বক্তব্য দেন দাসেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কমর উদ্দিন, সুড়িকান্দি গ্রামের মুরব্বি মুছব্বির আলী ও নজব উদ্দিন, যুব নেতা ফাহিম আহমদ তালিমপুর ইউনিয়নের সুনাম উদ্দিন সুনাই বন্ধু, ফয়ছল আহমদ, বর্ণি ইউনিয়নের হেলাল উদ্দিন, নিজবাহাদুর ইউনিয়নের খয়রুল ইসলাম নুনু প্রমুখ।

এরপর দুপুর ২টার দিকে বড়লেখা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এই বিষয়ে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ওসি, পৌরসভার মেয়র, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, চার ইউনিয়নের মুরব্বিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে মুঠোফোনে বক্তব্য দেন পরিবেশ মন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ মো. শাহাব উদ্দিন। তিনি সকলকে ধৈর্য্য ধারনের আহবান জানান। কোনোভাবেই বিশৃঙ্খল পরিবেশ যাতে সৃষ্টি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহীনিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে বলেন। নিজে এলাকায় এসে বিষয়টি সামাধান করার আশ্বাস দেন।


সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সুন্দর বলেন, ‘নির্বাচনে তিনি আমার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। উপজেলায় দেখা হলে তিনি আমার সাথে হাত মেলাতে চেয়েছিলেন। আমি বলেছি আপনার সাথে হাত মেলানোর রুচি নেই আমার। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। গায়ে হাত তোলার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।’


এ বিষয়ে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হক বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ৪ ইউনিয়নের মুরব্বিদের নিয়ে বসা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউএনও মহোদয় ছিলেন। মন্ত্রী মহোদয়ের সাথেও আলাপ হয়েছে। তিনি এলাকায় আসলে বিষয়টি সমাজিকভাবে সমাধান হবে। এতে সকলে একমত হয়েছেন।’

error: Content is protected !!