মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ




মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে পর্যটকের স্রোত




এ.জে লাভলু :: নানা বয়সী মানুষ। তাদের কেউ জলপ্রপাতের পানিতে সাঁতার কাটছেন। হইচই করছেন। কেউ নিজের ছবি তুলেছেন। কেউ আবার প্রিয়জনদের ছবি ক্যামেরাবন্দি করছেন। কেউ ঘুরে ঘুরে প্রকৃতিক সৌন্দর্য অবোলকন করছেন। শুক্রবার মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত এলাকায় এ দৃশ্য দেখা গেল।

এবারের ঈদুল ফিতরের ছুটিতে উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে পর্যটকের ঢল নেমেছে। পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে জলপ্রপাত এলাকা। এতে হাসি ফুটেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে।


সরেজমিনে দেখা গেছে, দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবসহ নানা বয়সী মানুষ বাস, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় যানবাহনে করে মাধবকুণ্ডে বেড়াতে আসছেন। মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের নির্মিত গাড়ি রাখার টার্মিনালে জায়গা না হওয়ায় আগত পর্যটকরা সড়কের ওপর গাড়ি পার্কিং করেছেন। এতে অনেকসময় যানজট লাগছে। স্থানীয় দোকানগুলোতে জমজমাট বিকিকিনি হচ্ছে।

বনবিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের প্রথম দিন বুধবার থেকে তৃতীয় দিন শুক্রবার বিকাল তিনটা পর্যন্ত মাধবকুণ্ড জপ্রপাতে প্রায় ১৫ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। প্রতিদিন আশপাশের উপজেলার মানুষ ছাড়াও দেশের অন্যান্য জেলা এবং বিদেশী পর্যটকরা ভীড় করছেন মাধবকুণ্ডে।


সিলেট থেকে মাধবুকণ্ডে সপরিবারে বেড়াতে আসা সাংবাদিক আব্দুল কাদির তাপাদার বলেন, ‘মাধবুকণ্ড বাংলাদেশের একটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট। শ্রষ্টা যেন সবটুকু সৌন্দর্য ঢেলে এখানকার প্রকৃতিকে সাজিয়েছেন। এখানে রয়েছে পাহাড়, ঝর্ণা, খাসিয়া, পল্লি। এটার অপার এক সম্ভাবনা রয়ে গেছে। যে সম্ভাবনা এখনো আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। তিনি বলেন, মাধবকুণ্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। এ জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। পরিবেশমন্ত্রী এবং পর্যটনমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা একটু নজর দিলে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত পৃথিবীর মধ্যে একটি আকর্ষনীয় পর্যটক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত লাভ করবে। ’

সিলেট জালালাবাদ কলেজের প্রভাষক ইশরাক জাহান জেলী বলেন, ‘ মাধবকুণ্ডে আগেও এসেছি। এবারও সপরিবারে এসেছি। আর প্রকৃতির কাছে আসলে স্বাভাবিকভাবে মানুষের মন অনেকটা উদার হয়ে যায়। আমরা যারা শহরে জীবনযাপন করি, কয়েকদিন পর আমাদের উচিত প্রকৃতির কাছে আসা। আর প্রকৃতির কাছে আসলে স্রষ্টাকে জানা যায়। আর এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা আগের চেয়ে এখন অনেক ভালো। এছাড়া এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভলো। এটা আমার ভালো লেগেছে।’


শিক্ষক এমরান হোসেন নামুন ও শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা অবসর পেলে মাধবকুণ্ডে সপরিবারে বেড়াতে আসি। এখানে এলে মন ভরে যায়। অন্যরকম ভালো লাগে। এখানকার প্রকৃতি-পরিবেশ যে কাউকে মুগ্ধ করে। এজন্য এখানে বারবার ছুটে আসি।’

মাধবকুন্ড পর্যটন পুলিশের এএসআই (সহকারি উপ-পরিদর্শক) ভানু লাল রায় শুক্রবার বিকেলে বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে মাধবকএণ্ড পর্যটরা বেড়াতে আসছেন। প্রতিদিন দিন হাজার হাজার পর্যটকের সমাঘম ঘটেছে এখানে। পর্যটকের নিরাপত্তায় পুলিশ সবসময় কাজ করছে। আগত পর্যটকরা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে যাতে পাহাড় চূড়ায় না উঠতে পারে, সেজন্য পুলিশ সর্তক রয়েছে। এখনো কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেনি।’

error: Content is protected !!