বুধবার, ৩ জুন ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



উন্নত জীবনের প্রলোভন: সাগরে হারিয়ে গেলেন বড়লেখার ফাহাদ, ‘দালাল’ নাসিরের শাস্তি চায় পরিবার




লিটন শরীফ :: ‘মাইগো, আমি যাইরামগি (চলে যাচ্ছি)। আমারে যে টেখা (টাকা) দিছো একটাও আমি খাইছি না। ওরা সব নিয়ে গেছে। কোনো কিছু খাইতে দেয়নি। অনেক নির্যাতন করেছে আমারে। গেইমও উঠছি। দোয়া করিও। গত ৮ মে রাত আটটায় মুঠোফোনে মা আয়েশা আক্তারের সাথে কথা হয় ফাহাদের। মায়ের সাথে ছেলে ফাহাদের এটিই ছিল শেষ কথা।

পরদিন ৯ মে রাত একটার দিকে ফাহাদ তার প্রবাসী মামার মুঠোফোনে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠায়। এতে লেখা ছিল মামা আমি বোটে বনো (বসা)। আমার আম্মারে (মাকে) কইও। কইবায় নি মামা? মামার কাছে এটিই ছিল ফাহাদ আহমদের মিনতিপূর্ণ শেষ বার্তা। আর কোনো যোগাযোগ নেই। এরপর তাঁরা জানতে পারেন সাগরে নৌকা ডুবে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি মারা গেছেন, এই নৌকায় মৌলভীবাজারের বড়লেখার ফাহাদও ছিলেন। এরপর থেকে মা আয়েশা আক্তারের বিলাপ আর থামছে না। তিনি কথা বলছেন, আর কাঁদছেন।

ফাহাদের মা আয়েশা আক্তার চিৎকার করে কান্নাজড়িত কন্ঠে যখন কথা বলছিলেন, কোনো কথাই গুছিয়ে বলতে পারছিলেন না। কান্নার ঢেউ এসে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কথাগুলো।

কথা বলছেন, আর কিছুক্ষণ পরপর মূর্ছা যাচ্ছেন। বুকের ভেতরে উথলে ওঠা এ কান্না থামানোর যে কোনো পথ নেই। বছর দেড়েক আগে নাড়ি ছেড়া ধন কোল ছেড়ে ছেলে গিয়েছিলেন দূরদেশে। একটা ভালো জীবনের আশায়, একটা সচ্ছল জীবনের স্বপ্নে। তবে আজ আর কিছুই হাতের নাগালে নেই। না ছেলে, না সচ্ছল জীবন। ‘ভূমধ্যসাগর ট্র্যাজেডিতে’ ঘটেছে সে স্বপ্নের সলিল সমাধি। নৌকাডুবিতে নিহত ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছে ছেলে ফাহাদ আহমদের (১৮) নাম। সাগর জলে ভেসে গেছে ছেলে। ভেসে গেছে স্বপ্ন।

ফাহাদের বাড়ি মৌলভীবাজারের বড়লেখার পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গাজিটেকা পূর্বের চকে। বাবা আব্দুল আহাদ দুবাই প্রবাসী। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে ফাহাদ ছিলেন সবার বড়। প্রবাসে যাওয়ার আগে বড়লেখা সরকারি কলেজে পড়তেন, ছিলেন প্রথম বর্ষের ছাত্র।

লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়া উপকূলে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবিতে যে কজন মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ফাহাদ আহমদও একজন। গত সোমবার (১৪ মে) রেড ক্রিসেন্ট প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মৌলভীবাজারের যে দুজনের নাম দিয়েছে। তাদের একজন শামীম ও অপরজন ফাহাদ। এরপরই পরিবারের সদস্যরা জেনেছেন ফাহাদ নৌকাডুবিতে মারা গেছেন।

যে ভাবে প্রলোভন : দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের মাধ্যমে পরিচয় হয় নাসির উদ্দিন নামের এক দালালের সাথে। অল্প খরচে ইটালি পৌঁছানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে উচ্চ বেতনে বিদেশে কর্মসংস্থানের লোভ দেখায় কিশোর ফাহাদ আহমদকে। বারবার ফাহাদের সাথে দেখা করে সে লোভ দেখায়। কখনো বাড়িতে গিয়ে। কখনো বা শহরের কোনো চায়ের স্টলে। পরিবার চাইছিল না সাগর পাড়ি দিয়ে তাদের ছেলে ইতালি যাবে। কিন্তু নাসির উদ্দিন নামের ওই দালাল ফাহাদকে কিভাবে পটিয়ে ফেলে। নাসির বলেছিলেন, কোনো সমস্যা হবে না। জাহাজে পাঠানো হবে। ভয়ের কিছু নেই। ফাহাদ অনেকটা জোর করেই মাকে বাধ্য করে। চুক্তি হয় আট লাখ টাকায়। মায়ের কাছে নগদ দুই লাখ টাকা ছিল। বাকিটা অনেকের কাছ থেকে ধারদেনা করে জোগাড় করেন। এরপর নাসির উদ্দিন ইতালি পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন।

লিবিয়ার পথে : ২০১৭ সালের ৩ নভেম্বর ফাহাদ ইতালির উদ্দেশ্যে লিবিয়ার পথে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। দুবাই, তুর্কি হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান। লিবিয়াতে পৌঁছার পর তিন মাস পরে একবার সাগরপথে ইতালির উদ্দেশে পাঠানো হয়েছিল। ধরা পড়ে যায় ফাহাদরা। ধরা খাওয়ার পর তাঁকে দেশে ফেরত আনার জন্য নাসির উদ্দিনকে চাপ দেওয়া হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। কিন্তু নাসির উদ্দিন তাঁকে ছাড়িয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। বিক্রি করেন দালালের কাছে। এরপর নাসির উদ্দিন দেখায় তার আসল রূপ। বিভিন্নভাবে চাপ দেয় মুক্তিপনের।

ভয়ঙ্কর দালাল চক্রের ফাঁদে : লিবিয়ায় প্রথমবার ধরা পড়ার পর ফাহাদরা ফাঁদে পড়ে ভয়ঙ্কর দালাল চক্রের। দেশীয় দালাল নাসির সেখানে বিক্রি করে দেয়। ওটা বুঝতে পারেনি ফাহাদরা। এরপর শুরু হয় নির্যাতন। কিছুদিন পরপরই ভিডিও কলে ফাহাদের দিকে বন্দুক ধরে আত্মীয়স্বজনের কাছে টাকা চাওয়া হয়। সন্তানের মায়ায় মা আয়েশা আক্তার দেশীয় দালাল নাসিরের কাছে টাকা দেন। দফায় দাফায় বিক্রি হচ্ছে ফাহাদ। আর এদিকে মায়ের কাছে টাকার চাপ দিচ্ছে দেশীয় দালাল। মায়ের মন। সব শেষ পরিবারের শেষ সম্বল বাড়ি প্রতিবেশীর কাছে বন্ধক দেন মা। একে একে পরিশোধ করেছেন দালালের ১৮ লাখ টাকা। টাকা নেওয়ার পরও এতদিন ছেলের ওপর নির্যাতন চলেছে। এরপর লিবিয়াতেই ছিলেন এতদিন।

যেভাবে চলত নির্যাতন : ভিডিও কলে ফাহাদের দিকে বন্দুক ধরে টাকা আদায় করলে বন্ধ হয়নি নির্যাতন। পরিবার থেকে খাবারের টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওরা খাবার দেয়নি। খাবার দিত অল্প। গোসলের জন্য পানি দিত না। দুই তিনদিন পর পর পানি দিত। গোসলের জন্য তা পর্যাপ্ত ছিল না। এই পানিতে গোসল করে অসুস্থ হয়ে পড়ে ফাহাদ। দিনে মাত্র একবার খাবার দেয়া হতো। দিন-রাত শুধু কাঁদতো। খাবার চেয়ে কান্নাকাটি করত। ভয়েস মেসেজে নির্যাতনের এইসব কথা মাকে আগে জানায় ফাহাদ। দিন দিন নির্যাতনের মাত্রা বাড়ে।

মরণ যাত্রা : নির্যাতনের মাঝে কেটে যায় প্রায় দুই বছর। সব শেষে ৯ মে চক্রটি ভয়ঙ্কর ভূমধ্যসাগরের জলপথ পাড়ি দেয়ার জীবন-মরণ খেলা ‘গেইম ট্র্যাপে’ তুলে দেয় ফাহাদদের। ভূমধ্যসাগরে যাত্রা শুরু হয় বড় বোট দিয়ে। এক পর্যায়ে বড় বোট থেকে ছোট একটি প্লাস্টিকের বোটে তোলা হয় অভিবাসীদেরকে। বোটটি এতই ছোট ছিল যে, একসঙ্গে এত মানুষের স্থান সংকুলান হচ্ছিল না তাতে। গাদাগাদি করে তাতেই উঠতে হয় ফাহাদদের। প্লাস্টিকের বোটে উঠে ফাহাদ প্রবাসী মামার কাছে শেষবারের মত বার্তা পাঠায়। এরপর ভয়ঙ্কর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকা ডুবে অন্যান্য বাংলাদেশীর সাথে সলিল সমাধি হয় ফাহাদের। স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। জীবন প্রদীপ নিভে যায় অকালে। অন্যদিকে মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে ফাহাদের পরিবার হারিয়েছে শেষ সম্বলটুকুও।

মায়ের বক্তব্য : ছেলের চিন্তায় বার বার অজ্ঞান হয়ে মা আয়েশা অসুস্থ হয়ে গেছেন। স্বামী বিদেশে। এই অবস্থায় তাঁর বাবার বাড়ির লোকজন স্বামী বাড়ি থেকে নিয়ে গেছেন নিজেদের বাড়িতে। বাবার বাড়ি উপজেলার নিজবাহাদুরপুর ইউনিয়নের গল্লাসাংগন (নিশ্চিন্তপুর) গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, স্বজনেরা আহাজারি করছেন। আত্মীয়স্বজন ও আশপাশের লোকজন পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দিতে আসছেন। ওই বাড়িতে কথা হয়, মায়ের সাথে।

মা আয়েশা আক্তার বলেন, ‘আমি কিতা করতাম (কি করবো)। আমি চাইছলাম না (চাইনি) পোয়ারে পাঠাইতে। নৌকা ডুবি যায়। পোয়ারে এমনভাবে উসকাইছে নাসির দালালে। পোয়া পাও ধরি কইছে কাঠের শিপে নিব, কিচ্ছু অইতো (হবে) নায়। রাজি অই যাও। অখন আমার বাইচ্চা আছে কিনা কুনতা জানি না। জামাইও বেমার (স্বামী অসুস্থ)। তিনটা বাইচ্চা নিয়া বাড়ি ছাড়িয়া রোডও। না খাইলাম পানি, না খাইলাম দানা। অনাহারে জীবন কাটাইরাম (কাটাচ্ছি)। অন্যের কাছে বাড়ি বন্ধক দিয়া টাকা নিছি। মনে করছি ছেলে ইটালি পৌঁছালে আমাদের দিন ফিরতে পারে। বন্ধকের টাকা দিয়ে বাড়ি ফেরাতে পারব। এখন সব শেষ আমার।’

মামার বক্তব্য : ফাহাদের এক মামা সাব্বির আহমদ বলেন, ‘আমার ভাগনা খুব সরল সোজা। তারে খুব বেশি উসকানি দিত নাসির। ১০ দিনের মধ্যে ইটালি পৌছে দিব। এমনটা বলেছে। প্রথমে আট লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। পরে কয়েকবার বন্দুক ধরে ভিডিও কল করে বলে, টাকা পাঠাও। ধারদেনা আর বাড়ি বন্ধক দিয়ে ১৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন টেলিভিশনে নিউজ দেখছি। এখনো নিশ্চিত হতে পারছি না। এখন ছেলেও গেল। বাড়িও গেল।’

চাচার বক্তব্য : চাচা নূরুল ইসলাম। তাঁর কোনো ছেলে মেয়ে নেই। ফাহাদের ছবি দেখে ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠেন। বলেন, ‘মায়ার ভাতিজা। ছেলেটারে মেরে ফেলেছে। আমার কোনো ছেলে মেয়ে নেই। ফাহাদ আহমদ ছিল আমার কলিজার টুকরা। সব শেষ আমাদের’।

সহপাঠীর বক্তব্য : ফাহাদের কলেজের জ্যেষ্ঠ এক বড় ভাই মোহাম্মদ আবু তাহের। একই গ্রামের বাসিন্দা। আবু তাহের বলেন, ‘সে খুব সহজ সরল ছিল। সবার সাথে হাসি খুশি থাকত। সে মারা গেছে এটা আমরা ভাবতে পারছি না। এই মৃত্যু কেউ মানতে পারছে না’।

মধ্যস্থতাকারীর বক্তব্য : ফাহাদ লিবিয়া যাওয়ার আগে গল্লাসাংগন এলাকার এক আত্মীয় আজমল আলীসহ নাসিরের সাথে মধ্যস্থতা হয়। কথা হয় আজমল আলীর সাথে। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার ফাহাদ ধরা পড়ার পর আমরা নাসিরের বাড়ি যাই। সেখানে তার পরিবারের স্বজনদের সামনে কথা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে আমরা বিচার দিয়েছি। ফাহাদকে ফিরেয়ে আনতে বলেছি। কিন্তু নাসির তা না করে সে দালাল চক্রের হাতে তুলে দিয়েছে। বার বার টাকা নিয়েছে। পরিবারটিকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। ছেলেটিও মারা গেল’।

নাসিরের শাস্তি চায় পরিবার : পরিবারের সম্মতি ছিল না। তারপরও প্রলোভন দেখিয়ে কিশোর ফাহাদ আহমদকে ইতালির উদ্দেশ্যে লিবিয়া পাঠানো নাসিরের শাস্তি চায় পরিবার ও স্বজনরা। তাঁরা বলছেন, আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না করতে পারতে দালালরা।

কে এই নাসির : ফাহাদের স্বজনদের মুখ থেকে ঘুরেফিরে দালাল চক্রের দেশীয় একজন নাসিরের নাম উঠে এসেছে। নাসির মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বেয়ালী গ্রামের আমিন উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয়ভাবে সবার কাছে তার পরিচিতি আদম ব্যবসায়ী হিসেবে। তার হাত ধরে অনেকেই স্বপ্নের দেখে যাত্রা করেন। এরপর জিম্মি হয়ে পড়েন। পরিবারকে দিতে হয় বড় মুক্তিপন। আটকে পড়াদের স্বজনরা প্রতিকার চাইতে গেলে নাসির ও তার পরিবার ভয়ভীতি দেখান। অনেক উপরে তার হাত রয়েছে বলেও ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বললে নাসিরের বিষয়ে সরাসরি বক্তব্য দিতে না চাইলেও তার সম্পর্কে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানিয়েছেন, সে খুব চালাক প্রকৃতির। বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতারিত লোকজন বিচার নিয়ে আসেন। কয়েকবার সালিশ বিচারও হয়েছে। হঠাৎ সে উধাও হয়ে যায় এলাকা থেকে। ফাহাদের সাথেও উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের আরেকজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁর নাম জুয়েল আহমদ (২৩)। জুয়েল আহমদ ওই ইউনিয়নের ছাতারখাই গ্রামের জামাল উদ্দিন বছরের ছেলে। জুয়েলকেও নাসির পাঠিয়েছে। এমনটিই জানিয়েছেন জুয়েলের বাবা জামাল উদ্দিন।

ধরা ছোঁয়ার বাইরে নাসির : ভাগ্যান্বেষী এই যুবকদের স্বপ্ন দেখিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে, এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে নাসির উদ্দিন। বড়লেখার ফাহাদ ও জুয়েল আহমদ নামে দুইজন নিখোঁজের পর থেকে সে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ করে রেখেছে। ভুক্তোভূগী পরিবারের লোকজন তাঁর কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না। বাড়িতে গিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনার সঙ্গে বারবার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের নাসির উদ্দিনের নাম চলে আসায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

কলেজের শিক্ষকের বক্তব্য : বড়লেখা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ফাহাদ আহমদ আমাদের কলেজের ছাত্র ছিল। তার এমন মৃত্যু আমরা প্রত্যাশা করিনি। সম্প্রতি ইতালি যাওয়ার পথে সাগরে ডুবে অন্তত ৭০জন যুবক মারা গেছেন। তারা সবাই বাংলাদেশি। আমাদের অভিভাবকদের আরো সচেতন হওয়া দরকার। অভিভাবকদের অনুরোধ করবো আপনার সন্তানকে একজন চাকর না বানিয়ে একজন উদ্যোক্তা বানান, আমাদের দেশকে নিয়ে তাঁদের স্বপ্ন দেখতে শিখান, দেশের মানুষকে ভালবাসতে শিখান, কলিজার টুকরা সন্তানকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিবেন না। আমাদের যুবশক্তি, মেধাশক্তি, শ্রমশক্তি বিদেশে পাচার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিনিময়ে আমরা পাচ্ছি সামান্য অর্থ। যে যুবক হাজার স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যায় তার একভাগ স্বপ্নও যদি সে নিজের দেশকে নিয়ে দেখত তবে ইংল্যান্ড আমেরিকা থেকে মানুষ আমাদের দেশে কাজ করার জন্য আসত। আমাদের দেশের ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী শ্রমিকসহ সবারই লক্ষ সুযোগ পেলেই জীবিকার সন্ধানে বিদেশ যাওয়া। বিশেষ করে ইউরোপের দেশে।’