রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ




তাহিরপুরের তিন শুল্ক বন্দর দিয়ে কয়লা আমদানি শুরু

ডেস্ক রিপোর্ট





সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার তিন শুল্ক বন্দর দিয়ে কয়লা আমদানি শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার থেকে এ কয়লা আমদানী শুরু হয়। আগামী ৩১ মে পর্যন্ত এই আমদানি কার্যক্রম চলবে।

গত ১০ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট উত্তোলিত অবশিষ্ট কয়লা রপ্তানী করতে ৩১ মে পর্যন্ত সময় দিয়ে আদেশ জারি করেন।

ভারতের মেঘালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন ডিমাহাসাও জেলা ছাত্র ইউনিয়নের আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৪ ইংরেজির ১৭ এপ্রিল ন্যাশনাল গ্রীণ ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) মেঘালয় সরকারের অবৈধ কয়লা খনন ও পরিবহন বন্ধের নির্দেশ দেন। একই বছরের ৬ মে সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় মূখ্যসচিব এব্যাপারে প্রতিটি জেলায় নির্দেশ জারি করেন। গ্রীণ ট্রাইব্যুনালের এই নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয় মেঘালয়ের জেলা প্রশাসকদের। এ কারণে ২০১৪ ইংরেজির ১৩ মে থেকে মেঘালয়ের সীমান্ত জেলাগুলোয় ১৪৪ ধারা জারি করে কয়লা পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

এরপর থেকে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবচেয়ে বড় শুল্ক বন্দর সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বড়ছড়া-চারাগাঁও ও বাগলী দিয়ে কয়লা আমদানী বন্ধ হয়ে যায়।

রপ্তানীকারকরা আইনী লড়াই করে প্রথমে উত্তোলিত কয়লার রাজস্ব জমা দিয়ে ৩ মাস (এপ্রিল, মে ও জুন’২০১৫) রপ্তানীর সুযোগ পান। পরে এই সময় ৫ দফায় বাড়িয়ে গত প্রায় ৫ বছরে ২১ মাস উত্তোলিত কয়লা রপ্তানী হয়।

গত বছরের ৪ ডিসেম্বর আবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তোলিত কয়লা রপ্তানীর সুযোগ দেয়। অথচ এই সুযোগ কোন প্রকার নোটিশ বা চিঠি ছাড়াই ১৫ জানুয়ারি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এরপর আবারও রপ্তানীকারকরা আইনী লড়াই শুরু করেন। সর্বশেষ গত ১০ মে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ৩১ মে পর্যন্ত উত্তোলিত অবশিষ্ট কয়লা রপ্তানীর সুযোগ দেয়।

তাহিরপুর কয়লা আমদানী কারক গ্রুপের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবুল খায়ের বলেন, ‘কয়লা আমদানী কারকরা এই বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তোলিত কয়লা আমদানী হবে জেনে এলসি করেছেন। অথচ ১৫ জানুয়ারি হঠাৎ করেই রপ্তানী বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ কারণে আমদানী কারকদের কোটি কোটি টাকা মেঘালয়ের রপ্তানী কারকদের কাছে আটকা পড়েছে। এবার আবার ৩১ মে পর্যন্ত কয়লা আমদানী হবে। এই সময়ে আমদানী কারকরা রপ্তানী কারকদের কাছ তাদের আগের দেওয়া এলসি’র বিপরীতে কয়লা আনতে পারলে ভালো হয়। একইসঙ্গে আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম অব্যাহত থাকুক, এটি চাই আমরা।’

তাহিরপুর কয়লা আমদানী কারক গ্রুপের সচিব রাজেশ তালুকদার জানালেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট উত্তোলিত কয়লার অবশিষ্টাংশ রপ্তানী করতে ৩১ মে পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। গত ১০ মে এই আদেশ হয়। কিন্তু সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই ১০ দিন চলে গেছে। আগামী ১১ দিন কয়লা আমদানী হবে বলে আশা করছি।’

তাহিরপুর কয়লা আমদানীকারক গ্রুপের সভাপতি আলকাছ উদ্দিন খন্দোকার বলেন,‘মঙ্গলবার কয়লা আমদানী শুরু হওয়ায় কেবল আমদানীকারকরা নয়, সীমান্তের এই তিন বন্দরে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিকের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে। সামনে ঈদ, এই সময়ে আমদানী কার্যক্রম শুরু হওয়া জরুরি ছিল।’




error: Content is protected !!