রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ




যুক্তরাজ্যে ‘অনিচ্ছাকৃত হত্যা’র অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি

প্রবাস ডেস্ক





দেশ ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে অ্যালার্জির সংক্রমণে এক কিশোরীর মৃত্যুতে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই বছর কারাদণ্ড পাওয়া এক বাংলাদেশিকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে দেশটির আপিল বিভাগ। আদালত জানায়, আব্দুল কুদ্দুস নামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ওই ব্রিটিশ ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীর অ্যালার্জি নোট দেখেননি।

ল্যাংকাশায়ারের ওসওয়াল্ডউইস্টলের রয়্যাল স্পাইস রেস্তোরাঁর মালিক কুদ্দস এবং তার কর্মচারী রশিদ। আদালতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর রেস্তোরাঁ থেকে কেনা খাবার খেয়ে মেগান লি অ্যাকুইট অ্যাজমায় আক্রান্ত হন। খাবারের অর্ডার দেওয়ার সময় মেগানের বন্ধু উল্লেখ করেছিলেন যে, সে চিংড়ি ও বাদামে অ্যালার্জি রয়েছে। কিন্তু খাবার গ্রহণের দুই সপ্তাহ পর ব্রেন ডেমেজের কারণে মেগানের মৃত্যু হয়।

স্যার ব্রায়ান লিভসন বলেন, ‘অ্যালার্জির ব্যাপারে কুদ্দুস কিছুই জানতেন না। তাই এই পরিস্থিতিতে হত্যার অভিযোগ করা যেতে পারে না।

অভিযুক্ত আরেক বাংলাদেশি হারুণ রশিদের কাছ থেকে রেস্টুরেন্টটি কিনেছিলেন কুদ্দুস। বিক্রির পরও হারুণ ম্যানেজারের দায়িত্বপালন করে যাচ্ছিলেন। রশিদের তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁর সাজা কমানো হয়নি।

আপিল বিভাগে বিচারক বলেন, ম্যানেজার ওই কিশোরীর অর্ডার দেখেছিলেন যেখানে বাদাম ও চিংড়ি দিতে বারণ করা হয়েছিলো। বলা হয়েছিলো এই খাবারে মারাত্মক অ্যালার্জি তার।

এছাড়া যুক্তরাজ্য প্রণিত নীতিমালা অনুযায়ী কর্মী নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হয়েছিলো রশিদ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক নীতিও মানেননি তিনি। এজন্য ছয়মাস ও চার মাস করে সাজা হয় তার। আর কুদ্দুস ওই দোষ স্বীকার করায় তাকে পাঁচ মাস ও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আদালতের রায়ে বলা হয়, এই মুহূর্তে অ্যালার্জি সমস্যা আক্রান্তদের সচেনতনা প্রয়োজন। একইসঙ্গে রেস্টুরেন্টগুলোর তাদের ক্রেতাদের প্রতি আরও সতর্ক হতে হবে। এক বিবৃতিতে নিহতের মা গেমা লি বলেন, মেগান সবসময়ই তার খাবারের উপাদান নিয়ে সচেতন ছিলো। যে খাবারে অ্যালার্জি আছে তা কখনোই খেতো না মেগান।




error: Content is protected !!