সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ


 




ব্যান্ডেজে বাধা ক্ষোভের দহন নিভে গেছে





সাত্তার আজাদ :: ব্যান্ডেজে বাধা ক্ষোভের আগুন নিভে গেছে। নুসরাত আর কোনো দিন ফিরে আসবে না। হয়তো এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। কিন্তু সে বিচারের রায়ও সে শুনবেনা। যাই হোক নুসরাতের এ ঘটনা যে নাটক নয়, তার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে মেরে ফেলার চক্রান্ত ফাঁস হয়েছে। অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার নির্দেশে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন তারা- এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ১৩ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আটক হয়েছেন সাতজন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নুসরাতকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা মামলায় ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার মুক্তির দাবিতে ‘সিরাজ উদ দৌলা সাহেবের মুক্তি পরিষদ’ নামে কমিটি গঠন হয়। ২০ সদস্যের এ কমিটির আহ্বায়ক নুর উদ্দিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হন শাহাদাত হোসেন। ৪ এপ্রিল সিরাজ উদ দৌলার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন আসামি নুর উদ্দীনসহ কয়েকজন।

পিবিআই জানায়, নুর উদ্দিনসহ কয়েকজন সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে দেখা করে নির্দেশ নিয়ে আসেন। ৫ এপ্রিল সকাল নয়টা থেকে সাড়ে নয়টার দিকে মাদ্রাসার কাছে থাকা হোস্টেলের পশ্চিম অংশে তারা মূল পরিকল্পনা করেন। সেখানেই নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত হয়। অধ্যক্ষকে আটক করায় আলেম সমাজকে হেয় করা হয়েছে বলে মনে করেন তারা। এই হেয় করা ও প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখানের ক্ষোভ থেকে নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত। এ ঘটনায় দুজন মাদ্রাসাছাত্রী ও তিনজন ছাত্র জড়িত। এদের একজন মাদ্রাসাসংলগ্ন সাইক্লোন সেন্টারে তিনটি বোরকা ও কেরোসিন শাহদাতকে দিয়েছেন। পরে দুজন ছাত্র ও দুজন ছাত্রী বোরকা পরে সাইক্লোন সেন্টারের টয়লেটে লুকিয়ে ছিলেন। তারাই নুসরাতের শরীরে আগুন লাগিয়েছেন।

৬ এপ্রিল নুসরাত পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা তার গায়ে আগুন দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ওই দিন রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান।


error: Content is protected !!