সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ


 




বিশ্বের যে সব স্থানে মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ





নিজাম উদ্দিন সালেহ :: দর্শনার্থী ও পর্যটকেরা বৈধভাবে বিশ্বের সকল স্থানে যেতে পারেন কিন্তু ৬ টি স্থানে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয় না তাদের। সেগুলো হচ্ছে- ব্রাজিলের স্নেক আইল্যান্ড বা সর্পদ্বীপ, যুক্তরাষ্টের নেভাদা, নরওয়ের সভালবার্ড গ্লোবাল সীড ভল্ট, আন্দামান দ্বীপের নর্থ সেন্টিনেল আইল্যান্ড, চীনের কুইন শী হুয়াং সৌধ এবং ইতালির পভেগলিয়া।

ব্রাজিলের স্নেক আইল্যান্ড বা সর্পদ্বীপের সাপগুলোর বিষ এতোই ভয়ংকর যে, এতে মানুষের দেহের মাংস পর্যন্ত গলে যায়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা মরুভ‚ মিতে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন গবেষণা কেন্দ্র থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে জানা যায়। এখানে অত্যাধুনিক বিমান ও সামরিক সরঞ্জাম সংক্রান্ত গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে বলে অনেকের অভিমত।

নরওয়ের সভালবার্ড গ্লোবাল সীড ভল্ট এমন একটি জায়গা যেখানে গাছপালার বীজ সযত্নে মজুত করা হয়েছে। যদি বিশ্ব থেকে গাছপালা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় কিংবা শস্য বৈচিত্র হারিয়ে যায়, তবে মজুদকৃত এই বীজ বিশ্বকে আবার ফলে ফুলে সুশোভিত করে তুলবে। তাই এ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নর্থ সেন্টিনেল আইল্যান্ডে বসবাসকারী সেন্টিনেলীয় গোত্র অত্যন্ত ভয়ংকর হিসেবে পরিচিত। মনে করা হয়, তারা আফ্রিকা থেকে প্রথম আসা লোকজনের সারাসরি বংশধর। দ্বীপটিতে ৫০ থেকে ৪শ’ স্থানীয় গোত্রের বাস, যারা দ্বীপে প্রবেশকারী মানুষের ওপর হামলা চালায় এবং তাদের হত্যা করে। তাই ভারত সরকার দর্শনার্থী এবং এই দ্বীপ ও দ্বীপের লোকজনের সুরক্ষায় দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

দর্শনার্থী ও পর্যটকদের দ্বীপে ৩ মাইলের বেশী ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয় না। চীনের কুইন শী হুয়াং সমাধি সৌধটি ১৯৭৪ সালে আবিষ্কৃত হয়। সৌধটি ১ম কুইন সম্রাট কুইন শী হুয়াং-এর যিনি ২১০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে চীন শাসন করেন। চীন সরকার প্রাচীন রাজকীয় ব্যক্তিদের শেষ বিশ্রাম স্থলকে গোলমাল ও ঝামেলামুক্ত এবং গবেষক ও খননকারীদের কার্যক্রমকে নির্বিঘ্ন রাখতে এই সমাধি সৌধে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে।

এছাড়া ইতালীর পভেগরিয়া হচ্ছে একটি ছোট দ্বীপ, যা নন্দিত পানি নগরী ভেনিস থেকে স্বল্প দূরত্বে অবস্থিত। ১৮ শতকে ভয়াবহ সংক্রামক প্লেগ রোগে আক্রান্তদের মৃত্যুর জন্য এই দ্বীপে পঠিয়ে দেয়া হতো। সেখানে একটি গীর্জা, একটি আশ্রয় কেন্দ্র ও দুটি প্লেগ পিট গহ্বর রয়েছে যেখানে ১০ হাজার প্লেগ রোগী মৃত্যু বরণ করে। বিগত ২০১৬ সালে ৫ জন পর্যটক কলোরাডো থেকে এই দ্বীপে নৌকায় গিয়ে নামলে তারা আতংকিত হয়ে চিৎকার শুরু করেন। পরে ইতালী কর্তৃপক্ষ তাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করে। তারা জানায়, তারা ভৌতিক অশরীরী সত্তার উপস্থিতি অনুভব করে, যা তাদের মনে ভীতি সৃষ্টি করে। তখন থেকে সেখানে দর্শনার্থী প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে।

অনুবাদ: নিজাম উদ্দিন সালেহ
সূত্র: আল জাজিরা


error: Content is protected !!