বুধবার, ২২ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ




বড়লেখা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন: সিরাজ ও সোয়েবের হলফনামায় যা আছে






এ.জে লাভলু :: আসন্ন পঞ্চম বড়লেখা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদ্য সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এবারের নির্বাচনে মুহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন দ্বিতীয়বারের মতো আর সোয়েব আহমদ প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাদের দুজনের হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে, সম্পদের দিক থেকে এগিয়ে আছেন সোয়েব আহমদ। তাঁর বাড়ি গাড়ি সব আছে। আর বাড়ি থাকলেও গাড়ি নেই মুহাম্মদ সিরাজ উদ্দিনের।

মুহাম্মদ সিরাজ উদ্দিনের হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক পাশ। পেশা ব্যবসা (মৎসখামার)। কৃষিখাত থেকে তিনি বছরে আয় ৯ হাজার টাকা। ব্যবসা থেকে বছরে আয় হয় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি বছরে পান ৩ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে সিরাজের কাছে নগদ আছে ২৬ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর কাছে আছে ৯ হাজার টাকা। তাঁর কাছে স্বর্ণলঙ্কার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র রয়েছে, এগুলোর মূল্য ৬০ হাজার টাকা। স্ত্রীর কাছে ১০ তোলা স্বর্ণলঙ্কার ও ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রী। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে সিরাজের কাছে ১ একর কৃষি জমি, একটি বাড়ি এবং ২ একর মৎসখামার। যা তিনি উত্তরাধিকারী সূত্রে পেয়েছেন। সিরাজ উদ্দিন অগ্রনী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংক থেকে ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ (চলমান রয়েছে) নিয়েছেন।

সোয়েব আহমদের হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশ। পেশা ঠিকাদারী ব্যবসা। কৃষিখাত থেকে তাঁর বছরে আয় ১ লাখ টাকা। ঠিকাদারী ব্যবসা থেকে বছরে আয় ১৫ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে তাঁর কাছে নগদ ১ লাখ টাকা রয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ৯১২ টাকা। সোয়েবের ১৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা দামের একটি টয়োটা জিপগাড়ী রয়েছে। তাঁর নামে ইলেকট্রনিক সামগ্রী, আসবাবপত্র ও একটি শর্টগান রয়েছে, এগুলোর মূল্য ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫ ভরি স্বর্ণলঙ্কার ও আসবাবপত্র, এগুলোর মূল্য ১ লাখ ২৫ হাজার টাক। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে তাঁর কাছে ৯২.২৪ শতক কৃষি জমি আছে। যৌথ মালিকানায় একতলা ভবনের একটি বাড়ি রয়েছে। এছাড়া সোয়েব পূবালী ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংক থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, আগামী ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে এ উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।




error: Content is protected !!