মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ




আবারও মিয়ানমার থেকে মানুষের ঢল!

খবর: বাংলা ট্রিবিউন




কক্সবাজার সীমান্তে আবারও রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মিয়ানমারের নাগরিকদের ঢল নামার আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ। দেশটির সামরিক বাহিনী নতুন করে রাখাইন রাজ্যের নাগরিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতন শুরু করায় সেখান থেকে এবার মুসলমান ছাড়াও অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষও বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার জন্য ছুটে আসছে বলে নিশ্চিত হয়েছে সরকার। বিষয়টিতে উদ্বেগ জানিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এম দেলোয়ার হোসেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত লুইন ও কে তলব করে এ বিষয়ে উদ্বেগ জানান এবং নতুন করে লোক আসার তীব্র প্রতিবাদ করে একটি নোট ভার্বাল হস্তান্তর করেন।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী মুসলমান রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে নির্বিচারে গণহত্যা ও নির্যাতন চালানোর কারণে দেশটি থেকে কমপক্ষে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে দেশটি থেকে আরও চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। জাতিসংঘের সহযোগিতায় কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় তাদের জন্য শরণার্থী শিবির খোলা হয়েছে। তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে অব্যাহত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। এ অবস্থায় মিয়ানমার থেকে নতুন করে আর কাউকে আশ্রয় দিতে আগ্রহী নয় সরকার।

এ কারণে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের কাছে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সেখান থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন করে মানুষের ঢল নামতে পারে। এরই মধ্যে সেখান থেকে বেশ কিছু নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে সরকার জানতে পেরেছে। বাংলাদেশ আর এমন পরিস্থিতি দেখতে চায় না। রাখাইনে স্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য মিয়ানমারকে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে বাংলাদেশে যেন আর কোনও মিয়ানমারের নাগরিক প্রবেশ না করে সেটি নিশ্চিত করার জন্য।

নোট ভার্বাল হস্তান্তরের ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের অনুভূতির বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অমুসলিম যেমন বৌদ্ধ, খুমিন ও অন্যান্য উপজাতীয় মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

সীমান্তের বর্তমান পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আরও কিছু লোক এখন সীমান্তে অবস্থান করছে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য। অমুসলিম যারা সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে তারা ক্যাম্পে না গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যদি রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নতি না হয় তবে আমরা আশঙ্কা করছি গতবারের মতো নতুন করে মানুষের ঢল আসা শুরু হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ করার জন্য আমরা তাদেরকে বলেছি যাতে বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন করে মানুষের ঢল না নামে।’

error: Content is protected !!