রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ



৬ ডিসেম্বর বড়লেখাবাসী জেগে উঠেছিল রণহুঙ্কারে
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক




আজ ৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে নাকাল পাকহানাদার বড়লেখা ছাড়তে বাধ্য হয়। এইদিন ভোরে বড়লেখা সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হলে বর্তমান উপজেলা পরিষদের সামনে এক বিজয় সমাবেশ করা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হলেও ওইদিন বড়লেখায় উদিত হয় লাল সবুজের পতাকা।

জানা গেছে, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বড়লেখাবাসী জেগে উঠেছিল রণহুঙ্কারে। ৩২৫টি গ্রাম যেন প্রতিরোধের এক একটি দূর্গে পরিণত হয়। বড়লেখা থানাটি ৪নং সেক্টরের আওতাভুক্ত ছিল। মেজর সি.আর দত্ত সেক্টর কামান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন। এ সেক্টরের সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতের করিমগঞ্জে প্রয়াত এমপি দেওয়ান ফরিদ গাজীর নেতৃত্বে। বড়লেখা থানার পার্শ্ববতী বার পুঞ্জি ও কুকিরতলে সাব সেক্টর স্থাপন করা হয়। হানাদারদের বিরুদ্ধে অসংখ্য ছোট বড় আক্রমণ চালিয়েছে এ সাব সেক্টরের মুক্তি সেনারা। যুদ্ধের শুরুতেই বড়লেখার স্থানে স্থানে প্রতিরোধ গড়ে তোলে সংগ্রামী বড়লেখার মানুষ। অবিশ্বাস্য দ্রুততায় তাঁরা নেমে পড়েন শত্রুর মোকাবেলায়। ৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে নাকাল হানাদার বড়লেখা ছেড়ে পালায়। ভোরে বড়লেখা সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয়। পরে বর্তমান উপজেলা পরিষদের সামনে এক বিজয় সমাবেশ ওড়ানো হয় লাল সবুজের পতাকা। বড়লেখার যেসব স্থানে মুক্তিযোদ্ধারা অপারেশন চালিয়েছেন, এ গ্রামগুলো হলো- লাতু, সারোপার, শাহবাজপুর, ধামাই চা বাগান, হাকালুকি পারের কয়েকটি গ্রাম, বোরাথল, মাইজগ্রাম, ডিমাই, কেছরিগুল, কাঠালতলী, মাধবকুণ্ড, দশঘরি।

বড়লেখা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মুহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বড়লেখা সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধের সময় যেসব রাজাকার, আলবদর অনেক বাড়ি-ঘর জ্বালিয়েছে, অনেক মা-বোনের সম্ভ্রমহানী ও নর-নারীকে হত্যা করেছে, তাদের অনেকের বিচার ইতিমধ্যে হয়েছে। অন্যদেরও বিচার এ বাংলার মাটিতেই হবে।’ তিনি জানান, কুলাউড়া, বিয়ানীবাজারের চেয়েও বড়লেখায় বেশি নারী নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

এদিকে ৬ ডিসেম্বর বড়লেখা হানাদারমুক্ত দিবস উপলক্ষে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ও সন্তান কামান্ড যৌথভাবে র‌্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।