বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ





সিলেটের ৬টি আসনে বিএনপির প্রতিযোগিতা…

খবর: মানবজমিন




একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ দলে প্রবীণদের সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন বিএনপির তরুণ প্রার্থীরা। দ্বন্দ্বে নয় প্রতিযোগী হয়ে তারা এবারের সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মনোনয়নযুদ্ধে নেমেছেন। মাঠের জনপ্রিয়তায়ও এখন প্রবীণদের চেয়ে তরুণরা এগিয়ে। আবার বয়সের বিবেচনায় এগিয়ে তরুণরা। এই অবস্থায় সিদ্ধান্ত নিতেও রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হচ্ছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে। এবার তরুণদের মধ্যে যারা প্রার্থী হয়েছেন তাদের অনেকেরই ব্যাকগ্রাউন্ড ছাত্রদল, যুবদল। পাশাপাশি চলমান আন্দোলনেও তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। বিগত দিনে আন্দোলন সংগ্রামে কেউ কেউ অর্ধশতাধিক মামলারও আসামি হয়েছেন।

তবে সিলেট বিএনপির তৃণমূল নেতারা বলছেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবার বুঝে-শুনেই প্রার্থী বাছাই করবে। এরপর নির্বাচনে যাদের মনোনয়ন দেয়া হবে তাদের সঙ্গে শুধু বিএনপি নেতাকর্মীরাই নয়, সমর্থকরাও একাট্টা থাকবেন। দলের দুর্দিনে বিভেদ সৃষ্টি করে নয়, ঐক্যবদ্ধভাবে তারা জয় ঘরে তুলতে চায়।

সিলেটের ৬টি নির্বাচনী আসনে এবার বিএনপি থেকে প্রায় ৩০ জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। বিগত দিনে মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব-কোন্দল বেশি থাকলেও এবার সবাই নিজেদের মধ্যে বিভক্তি কমিয়ে দলীয় মনোনয়নের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। এ কারণে মাঠ পর্যায়ে তেমন বিভক্তি নেই।

বরং সবার অপেক্ষা এখন প্রার্থীর জন্য। সিলেট-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন লড়াইয়ে আলোচনায় আছেন তিন নেতা। এর মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র নেতা এনাম আহমদ চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী। তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে বয়োবৃদ্ধ হচ্ছেন এনাম আহমদ চৌধুরী। তিনি এবারই প্রথম সিলেট-১ আসন থেকে দলের মনোনয়ন চেয়েছেন। এর আগে তিনি নিজ এলাকা গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার আসন থেকে মনোনয়ন চান। সিলেটের ভোটারদের কাছে তিনি নতুন মুখ। তার সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্ব খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি সিলেট নগরীর বাসিন্দা ও সিলেট বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা খন্দকার আব্দুল মালিকের ছেলে।

খন্দকার মুক্তাদির প্রায় সাত বছর ধরে সিলেট বিএনপির রাজনীতিতে পদচারণা করছেন। এখন তার নেতৃত্বেই চলছে সিলেটের বিএনপি। বয়সে তরুণ হলেও সবাই তাকে দলীয়ভাবে সমীহ করে চলেন। খন্দকার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সিলেটে ইতিমধ্যে তিনি ভোটার মহলে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর বিজয়ে তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। দলের দুর্দিনের নেতা ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী। বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য হওয়ায় সিলেটেও রয়েছে তারা ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। বিগত সিটি নির্বাচনেও তিনি দলীয় প্রার্থী বিজয়ে ভূমিকা রেখেছেন।

সিলেট-২ আসনটির কর্তৃত্ব এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনার হাতে। স্বামীর অবর্তমানে তিনি সরাসরি বিএনপির রাজনীতিতে নেমেছেন। বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরের বিএনপির রাজনীতির অভিভাবক তিনি। এ আসনে এখন পর্যন্ত লুনার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ হতে পারেননি। নির্বাচনী এলাকার নবীন-প্রবীণ সবাই লুনার পক্ষে মাঠে একাট্টা। সিলেট-৩ আসন থেকে এবার প্রথমবারের মতো মনোনয়ন চাইলেন সিলেট বিএনপির এই মুহূর্তের সবচেয়ে সিনিয়র নেতা ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এমএ হক। বালাগঞ্জের আগে সিলেট-২ সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তিনি সিলেট-২ এর মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

কিন্তু এখন বালাগঞ্জ উপজেলাটি সিলেট-৩ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় তিনি এই আসন থেকে মনোনয়ন চাইছেন। পাশাপাশি তার সঙ্গে এ আসনের মনোনয়ন চাইছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী। কিন্তু এ আসনে এবার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন তরুণ নেতৃত্ব বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এমএ সালাম। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত এই আইনজীবীও রয়েছেন কেন্দ্রের পছন্দের তালিকায়। একই সঙ্গে তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে এ আসনে অবস্থান গড়ে তোলেছেন যুবদলের সাবেক সহসভাপতি এমএ কাইয়ূম চৌধুরী।

সিলেট-৪ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিমের সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছে কেন্দ্রীয় সহ-স্বেচ্ছাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান। এরই মধ্যে জামান ঢাকায় দলীয় কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তিনি বিগত ১০ বছরে অন্তত অর্ধশত মামলার আসামি হয়েছিলেন। গ্রেপ্তার এড়াতে লন্ডনে চলে গেলেও বেশ কয়েক মাস ধরে তিনি এলাকায় অবস্থান করছেন। দিলদার সেলিম সীমান্তবর্তী এ আসনে গ্রহণযোগ্য নেতা হলেও তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে জামানও বেশ জনপ্রিয়। বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলে রয়েছে তার আলাদা অবস্থান। এ আসনে জামান প্রতিযোগী হয়ে মাঠে থাকলেও কখনো দিলদার হোসেন সেলিমের সঙ্গে বিরোধে জড়াননি। ঐক্যবদ্ধভাবে রয়েছে এ আসনের বিএনপির নেতাকর্মীরা।

সিলেট-৫ আসনে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী ছিলেন হারিছ চৌধুরী। তিনি এখন এলাকায় নেই। কোথায় আছেন কেউ জানে না। এ আসনে গত ১০ বছরে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলেছেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নেতা মামুনুর রশীদ মামুন। তিনি বর্তমানে সিলেট জেলা বিএনপির সহ সভাপতির পাশাপাশি কানাইঘাটের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এ আসনটি বারবার জামায়াতকে ছাড় দেয়ায় বিএনপি একজোট হয়ে তাদের প্রার্থী দেয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছে দাবি জানিয়েছে। মামুনও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।

সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়া। কিন্তু অসুস্থতার কারণে এবার মাঠে নেই লেচু মিয়া। তার পরিবর্তে এখান থেকে প্রার্থী হতে দলের মনোনয়ন চেয়েছেন বিএনপির তরুণ নেতৃত্ব ফয়সল আহমদ চৌধুরী, মহানগর সম্পাদক আজমল বখত সাদেক ও জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। ফয়সল আহমদ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবার মাধ্যমে ভোটের মাঠে রয়েছেন। এ কারণে তার পরিচিতি রয়েছে। এমরান আহমদ চৌধুরী দলের জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় দলীয় নেতাদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আর আজমল বখত সাদেকও এবার নির্বাচনী মাঠে সরব রয়েছেন। ফলে বিএনপি জোটকে এ আসন ছাড় না দিলে তরুণদের মধ্যে কেউ প্রার্থী হতে পারেন- এমনটি জানিয়েছেন দলের সিনিয়র নেতারা।

error: Content is protected !!